অ্যাডসেন্স (AdSense) ব্যবহার করা সহজ হলেও সফল হওয়া অনেক কঠিন বটে। আপনি যদি অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে থাকেন তবে এতদিনে আপনি অবশ্যই তা টের পেয়েছেন। কিন্তু কথা হচ্ছে তাহলে কিভাবে গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে সফল হওয়া যায়?

আসলে অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই কিছু সুত্র ফলো করতে হবে। এবং স্বাভাবিকভাবেই সূত্রগুলো একটু কঠিন। আপনাকে এর জন্য প্রচুর সময় দিতে হবে এবং সেই সাথে শ্রম।

 

অ্যাডসেন্স আয় = ভালো মানের কনটেন্ট + পর্যাপ্ত ভিজিটর + ভালো পেমেন্ট করে এমন বিজ্ঞাপন + যুক্তিসঙ্গত বিজ্ঞাপন + সঠিক ডিজাইন এবং বিজ্ঞাপনের সঠিক অবস্থান

এটি হচ্ছে অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে সফল হওয়ার মুলমন্ত্র। আপনি যদি এই সুত্র পালন করে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেন তবেই আপনি সফল হতে পারবেন। আর এই সুত্র বুঝতে এবং কেনো এই সুত্র পালন করবেন তা বুঝার জন্য অবশ্যই আপনাকে রকেট সাইন্স জানতে হবে না। কারণ খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার এটি।

 

ভালো মানের কনটেন্টঃ আপনার ওয়েবসাইটে যদি ভালো মানের কনটেন্ট (Content) না থাকে তবে স্বাভাবিকভাবেই ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইট (Website) ঘুরে দেখতে চাইবে না। আর ভিজিটরই যদি না থাকে তবে আপনার ওয়েবসাইট থেকে আয় হবে কোথা থেকে? তাই ওয়েবসাইট এর ধরণের উপর নির্ভর করে প্রচুর পরিমাণে কনটেন্ট এবং সবসময় মান ঠিক রেখে কনটেন্ট প্রকাশ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সাথে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করতে হবে। যাতে ভিজিটররা বারবার ফিরে আসে।

 

পর্যাপ্ত ভিজিটরঃ ওয়েবসাইট এ যাতে নিয়মিত ভিজিটর আসে সে ব্যবস্থা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ আপনাকে প্রয়োজনীয় এসইও (SEO) করে সেই সাথে সোশ্যাল মার্কেটিং (Social Network Marketing) বা ইমেইল মার্কেটিং (Email Marketing) করে নিয়মিত ভিজিটর আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই কোন বেআইনি বা নিষিদ্ধ বা ব্যবহারকারীরা পছন্দ করে না এমন টেকনিক ব্যবহার করা যাবে না। এব্যাপারে আগের পোস্ট এ জানতে পারবেন। আর এসইও হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম ভালো মানের ভিজিটর পাওয়ার জন্য।

 

ভালো পেমেন্ট করে এমন বিজ্ঞাপনঃ অ্যাডসেন্স থেকে ভালো আয় করতে আপনার এমন বিষয়গুলোই বেঁছে নেয়া উচিৎ যেগুলোর বিপরীতে বিজ্ঞাপন থেকে বেশী আয় (High Paying Ads) করা সম্ভব। অর্থাৎ সেই টপিকের (Topic) উপর বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে গুগল অ্যাডসেন্স বেশী পেমেন্ট করে এরকম টপিকসমূহ। আর এক্ষেত্রে আপনি গুগল কীওয়ার্ড টুলস (Google Keyword Tools) ব্যবহার করতে পারেন। কেননা এই টুলস আপনাকে কোন কীওয়ার্ডের পিছনে আনুমানিক কতো ব্যয় করা হয় তা সম্পর্কে ধারণা দিতে সক্ষম। তবে একই সাথে মাথায় রাখতে হবে কীওয়ার্ডগুলো প্রতি মাসে কতবার সার্চ (Search) করা হয়। কেননা আপনি বেশী পেমেন্ট করে এমন কীওয়ার্ড নিলেন কিন্তু তার মাসিক সার্চ যদি হয় মাত্র ১০০ বার তবে এক্ষেত্রে আপনার সফল হওয়ার সুযোগ অবশ্যই কমে যাবে বৈকি।

 

যুক্তিসঙ্গত বিজ্ঞাপনঃ যদি আপনার ওয়েবসাইট এর ধরণের সাথে মিল রেখে বিজ্ঞাপন (Relevant Ads) দেখানো না হয় তবে আপনার আয় কমে যেতে পারে। তবে যদি আপনার ওয়েবসাইট নির্দিষ্ট টপিকের উপরেই হয় তবে ইহা সত্য। আর আপনার ওয়েবসাইট এ কি ধরণের বিজ্ঞাপন দেখাবে তা আপনি বাছাই করতে পারবেন। যদিও অনেকেই এ ব্যাপারটি জানেন না। আসলে গুগল অ্যাডসেন্স সবসময় যে ওয়েবসাইট এর ধরণের সাথে মিল রেখেই বিজ্ঞাপন দেখাবে তা কিন্তু নয়। কখনো কখনো অ্যাডসেন্স এমন বিজ্ঞাপনও দেখায় যার সাথে আপনার ওয়েবসাইটের টপিকের কোন মিলই নেই। এর কারণ রিটার্গেটিং (Re-targeting) বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য বিজ্ঞাপনসমূহ। অর্থাৎ অনেক সময় ভিজিটরকে একই বিজ্ঞাপন বারবার দেখাতে চাওয়া হয়। সেক্ষেত্রে সেই বিজ্ঞাপন আপনার ওয়েবসাইটেও দেখানো হতে পারে। ফলে আপনার আয় কমতে পারে। তাই অ্যাডসেন্স এর সেটিংস থেকে আপনি এধরণের বিজ্ঞাপনগুলো ব্লক করে দিতে পারেন। আর একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, গুগল অ্যাডসেন্স টেক্সট (Text) নির্ভর বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটের লিখার উপরেই ভিত্তি করেই বিজ্ঞাপন দেখাবে। এক্ষেত্রে আপনি যদি ফটো ব্লগার (Photo Blogger) হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই চেষ্টা করবেন প্রতিটি ছবির সাথে টপিকের সাথে মিল রেখে পর্যাপ্ত টেক্সট দিতে।

 

সঠিক ডিজাইন এবং বিজ্ঞাপনের সঠিক অবস্থানঃ একে এক কথায় অ্যাডসেন্স অপটিমাইজেশন (AdSense Optimization) বলা যায়। আপনি সঠিক ভাবে অপটিমাইজেশন করে আপনার আয় কয়েকগুন বৃদ্ধি করতে পারবেন। কিন্তু তার জন্য জানা দরকার অপটিমাইজেশন আসলে কি এবং কিভাবে কাজ করে।

প্রতিটি ওয়েবসাইট এর ধরণ, ব্যবহারকারী, ডিজাইন ইত্যাদি ভিন্ন হয়ে থাকে। এবং সবকিছু বিবেচনা করে এর বিজ্ঞাপন সেটআপও অবশ্যই ভিন্ন হওয়া উচিৎ তাই নয় কি? সেটাই। আপনি যদি সবগুলো বিষয় বিবেচনা করে সঠিকভাবে বিজ্ঞাপনগুলো সাজিয়ে থাকেন তবে আপনার আয় বৃদ্ধি পাবে, এক্ষেত্রে সঠিক স্থানে বিজ্ঞাপন বসানো, ওয়েবসাইট এর রঙ ও ধরণের উপর নির্ভর করে অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপনের রঙ, ডিজাইন পরিবর্তন ও ফন্ট (Font) পরিবর্তন করে থাকেন তবে সহজেই বিজ্ঞাপনগুলো ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং সেই সাথে আপনার আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে এক্ষেত্রে আপনি যদি কোন ভাবে ভিজিটরকে বিভ্রান্ত করে থাকেন তবে সেই সুযোগ কমে যাবে। সেই সাথে আপনার অ্যাকাউন্টও বাতিল করে দেয়া হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে গুগল অ্যাডসেন্স এর নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে।

 

মনে রাখবেন উপরের সবগুলো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ কোন একটিরও যদি অভাব থাকে তবে আপনার সফল হওয়ার সুযোগ কমে যাবে। সোজা কথায় লবণ হোক আর মরিচ, একটির অভাব আপনার খাবারের মান খারাপ করে দিবে।

এখন কথা হচ্ছে কিভাবে এই সবগুলোই সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করা যায়? যাতে আপনি সফল হতে পারেন? আমরা পরবর্তী পোস্ট এ সেসকল বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করবো। তবে অবশ্যই আপনাদের ফিডব্যাক এর উপর। আমরা এই পোস্ট সম্পর্কে আপনাদের ফিডব্যাক না পেলে পরবর্তী পোস্ট এর দিকে অগ্রসর হবো না।


 

আগের পোস্টঃ আপনার ওয়েবসাইট কি অ্যাডসেন্স এর জন্য উপযুক্ত?


পরবর্তী পোস্টঃ অ্যাডসেন্স সফলতার সূত্র – ১ : ভালো মানের কনটেন্ট


Leave a Reply