আমরা আগের পোস্ট থেকে জানলাম মাত্র ৫ টি ব্যাপার সঠিক ভাবে মেনে চলতে পারলে অ্যাডসেন্স (AdSense) ব্যবহার করে সফল হওয়া যায়। এখন কথা হচ্ছে কিভাবে এই সূত্রটি সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিটা পয়েন্ট এর কি কি ব্যবহার রয়েছে। এবং সেগুলোই আমরা এখন জানবো।

অ্যাডসেন্স আয় = ভালো মানের কনটেন্ট + পর্যাপ্ত ভিজিটর + ভালো পেমেন্ট করে এমন বিজ্ঞাপন + যুক্তিসঙ্গত বিজ্ঞাপন + সঠিক ডিজাইন এবং বিজ্ঞাপনের সঠিক অবস্থান

ভালো মানের কনটেন্ট

অ্যাডসেন্স থেকে সফল হতে হলে সবার আগে যে ব্যাপারটি লক্ষ্য করতে হবে সেটা হচ্ছে কনটেন্ট এর মান (Content Quality)। কারণ আপনার ওয়েবসাইট এর ভিজিটর (Visitor) যারা আসবে তারা আসবে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো পেতে। যদি তাদের কাজে আসবে না এমন কনটেন্ট এ আপনার ওয়েবসাইট পরিপূর্ণ থাকে তবে তারা দ্বিতীয়বার আপনার ওয়েবসাইট এ আসতে আগ্রহী হবে না। তাই প্রথমেই কনটেন্ট এর মান এর দিকে নজর দিতে হবে। এখন কথা হচ্ছে ভালো মানের কনটেন্ট বলতে আসলে কি বুঝানো হচ্ছে?

ভালো মানের কনটেন্ট বলতে প্রথমেই দেখতে হবে কনটেন্টটি ঠিক যে বিষয় উপস্থাপন করার কথা তা সঠিকভাবে আছে কিনা, কনটেন্ট সহজ বোধগম্য কিনা অর্থাৎ ভিজিটররা আপনার কনটেন্ট দেখে সহজেই উল্লেখিত বিষয়টি বুঝতে পারছে কিনা, কনটেন্ট সঠিকভাবে গুছানো কিনা ইত্যাদি। আর সেই সাথে সঠিক ভাবে প্রয়োজনীয় ছবি (Image) বা ভিডিও (Video) বা রেফারেন্স লিংক (Source Link) ইত্যাদি উপস্থাপন করা হয়েছে কিনা। কেননা অনেক সময় কনটেন্ট এর মানের ক্ষেত্রে সঠিক ছবি বা ভিডিও ইত্যাদি অনেক ভূমিকা পালন করে। আবার অনেক ভিজিটর ছবি বা ভিডিও এর কারণেই ওয়েবসাইট ভ্রমন করে। তাই এক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সঠিক ছবি বা ভিডিও যুক্ত করে কনটেন্ট এর মান বৃদ্ধি করতে হবে।

সবসময় কনটেন্ট আপলোড করার সময় পরীক্ষা করে নিতে হবে যে কনটেন্ট কোনভাবে কপিরাইটের (Copyright) আয়তায় পরে কিনা। কেননা আপনি যদি কপিরাইট এর আওতায় পরে এমন কনটেন্ট ব্যবহার করেন তবে প্রথমেই যে সমস্যায় পড়তে পারেন তা হচ্ছে গুগল (Google) বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন (Search Engine) থেকে আপনার ওয়েবসাইট সাসপেন্ড (Suspend) হয়ে যাওয়া এবং সেই সাথে আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়ে যাওয়া। তাই অবশ্যই কপিরাইট মুক্ত কনটেন্ট ব্যবহার করা অ্যাডসেন্স এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এক্ষেত্রে পোস্ট, ছবি, ভিডিও, মিউজিক (Music) ইত্যাদি এর সবই কপিরাইটের আয়তায় পরীক্ষা করে নিতে হবে।

কনটেন্ট এর দৈর্ঘ্য অনেক বড় একটি ফ্যাক্ট। সবসময় চেষ্টা করবেন কনটেন্ট এর দৈর্ঘ্য কম যেনো না হয় আবার খুব বেশীও যেন না হয়। কেননা আপনার কনটেন্ট এর দৈর্ঘ্য যদি অনেক বেশী হয় তবে শুরু করার আগেই ব্যবহারকারীরা পড়তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আবার বেশী ছোট হলে হয়তোবা আপনি সহজে আসল ব্যাপারটা কনটেন্ট এ ফুটিয়ে তুলতে পারবেন না। আদর্শ কনটেন্ট এর দৈর্ঘ্য হতে পারে ৫০০ থেকে ১০০০ শব্দের (Word) কনটেন্ট। আর যদি আপনি আরো বড় কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন তবে তা আপনি কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিয়ে পোস্ট করতে পারেন। এবং প্রতিটা ভাগ আদর্শ দৈর্ঘ্য এর ভিতর রাখতে পারেন।

সবসময় কনটেন্ট থেকে অপ্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু মুছে ফেলতে চেষ্টা করবেন। যাতে আপনার ওয়েবসাইট এর ভিজিটরদের কনটেন্ট দেখতে বা পড়তে অসুবিধা না হয়। এবং কনটেন্ট এ অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা বাজে শব্দ ব্যবহার করা যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

 

যদি আপনি এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে কনটেন্টগুলো তৈরি করে থাকেন তবে ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইট এর অন্যান্য কনটেন্টগুলো দেখতে বা পড়তে আগ্রহী হবে। সেই সাথে বাড়বার ফিরে আসবে ভালো কনটেন্ট পাওয়ার জন্য। এমনকি তারা তাদের ফ্রেন্ড বা ফ্যামিলির সাথে শেয়ার করতেও আগ্রহী হবে। ফলে আপনার ওয়েবসাইট এর ভিজিটর বাড়াবার একটি অন্যতম উপায় হচ্ছে ভালো মানের কনটেন্ট


আগের পোস্টঃ অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে সফল হওয়ার সূত্র


পরবর্তী পোস্টঃ অ্যাডসেন্স সফলতার সূত্র – ২: পর্যাপ্ত ভিজিটর


Leave a Reply