আপনার একটি ভালো ওয়েবসাইট বা ব্লগ আছে এবং আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে অ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপনও আছে। আপনি নিয়মিত কনটেন্টও (Content) তৈরি করছেন। কিন্তু ওয়েবসাইট এ সব থাকা সত্ত্বেও শুধু ভিজিটর (Visitor/Traffic) বা ব্যবহারকারী (User) নেই। এতে আপনার ওয়েবসাইটটাই বৃথা। এবং অ্যাডসেন্স (AdSense) থেকে আয় এর পরিমাণ শূন্য। কারণ বিজ্ঞাপনগুলো দেখার বা ক্লিক করার জন্য কেউই নেই। তাই ভিজিটর বা ব্যবহারকারী হচ্ছে ওয়েবসাইট এর জীবন। আর অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে সফল হতে হলে সবার প্রথমেই আপনার দরকার নিয়মিত ভিজিটর।

 

ভিজিটর বৃদ্ধি

আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর যত বেশি আসবে আপনার ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনে ক্লিক পরার সম্ভাবনা ততোই বৃদ্ধি পাবে। আর যতো বেশি ক্লিক বাড়বে ততোই আপনার আয় বৃদ্ধি পাবে। তাই ওয়েবসাইট বা ব্লগের ভিজিটর বাড়াবার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় ইম্পরট্যান্ট ব্যাপার হচ্ছে ভিজিটর যাতে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছুক হয়। মনে রাখতেই হবে যে ওয়েবসাইট বা ব্লগে ভিজিটর বৃদ্ধি করা যতটা না সহজ শোনায় আদতে তার থেকেও কঠিন। তাই বারবার ফিরে আসা ব্যবহারকারীরা আপনাকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করবে। ভিজিটর বা ব্যবহারকারী বাড়াতে নিচের স্টেপগুলো অনুসরণ করতে পারেনঃ

 

  • যেখানে চুলকাচ্ছে সেখানেই সবাই চুলকাতে থাকবে। কেননা অন্যস্থানে চুলকালেই আপনার চুলকানি কমবে না। ব্যবহারকারী বা ভিজিটরের ব্যাপারটাও ঠিক এরকম। যেখানে তারা সঠিক, দরকারি, মজার এবং ইউনিক তথ্য বা কনটেন্ট পাবে সেখানেই তারা যাবে। কেননা তারা সেটাই খুঁজছে। তাই এরকম কনটেন্টই তৈরি করতে চেষ্টা করুন যেগুলোর ব্যাপারে ভিজিটরদের চুলকানি আছে। অন্যথায় আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে তারা আসতে চাইবে না বা আসার কারণও খুঁজে পাবে না।

 

  • ভালো ওয়েবসাইট বা ব্লগ ডিজাইন (Design) হচ্ছে চুলকানি বাড়াবার আরেকটি উপায়। অনেক ব্যবহারকারী সুন্দর ডিজাইনের ওয়েবসাইট বা ব্লগগুলো কারণ ছাড়াও বারবার ঘুরে দেখতে থাকে। সেখানে যদি কনটেন্টও ভালো থাকে তবে সেটা হচ্ছে প্লাস পয়েন্ট। তাই ওয়েবসাইট বা ব্লগটি এমনভাবেই ডিজাইন করুন যেনো তা ভিজিটরদেরকে বারবার টানতে থাকে।

 

  • লিংক থেকে লিংকে যাতে ভিজিটররা ঘুরে বেড়াতে থাকে সেজন্য আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগের কনটেন্ট থেকে কনটেন্ট এর মাঝে লিংক তৈরি  করুন। একই সাথে প্রয়োজন হলে অন্য ওয়েবসাইট বা ব্লগগুলোতেও লিংক করুন। সেটা আপনার ওয়েবসাইট হোক আরও অন্যের। বড় আর ছোট। আপনি দেখে অবশ্যই অবাক হবেন যে এতে অন্যরাও আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগের লিংক শেয়ার করবে। ফলে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগের ভিজিটর এর পরিমাণ বাড়তে থাকবে।

 

  • অন্য ব্লগে মন্তব্য (Comment) করতে থাকা ভিজিটর বাড়াবার আরেকটি ভালো উপায়। তবে অবশ্যই স্প্যাম (Spam) করে নয়। আপনি যদি টপিকের (Topic) উপর ভিত্তি করেই মন্তব্য করায় অংশগ্রহণ করেন এবং টপিকের সাথে মিল রেখেই মন্তব্য করেন তবেই শুধু এটা সম্ভব।

 

  • ভিজিটর বা ব্যবহারকারী যাতে বারবার ফিরে আসে সে জন্য নিয়মিত আপডেট করাও খুব জরুরী। তেমন একটা আপডেট হয়না বা দীর্ঘদিন ধরেই আপডেট হয় না এমন ওয়েবসাইট বা ব্লগ অবশ্যই কেউ ফিরে এসে দেখতে চাইবে না।  তাই ভিজিটর বাড়াতে হলে নিয়মিত কনটেন্ট আপডেট করতে হবে।

 

  • ব্যবহারকারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বা কথাবার্তা বলার মাধ্যমেও ভিজিটরদের বারবার ফিরিয়ে আনা যায়। তাই নিয়মিত কমেন্ট বা রিপ্লাই দেয়া, তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া ইত্যাদি করেও ওয়েবসাইট এর ভিজিটর বাড়ানো সম্ভব।

 

  • ওয়েবসাইট বা ব্লগকে সার্চ ইঞ্জিনে (Search Engine) দেখানোর জন্য অবশ্যই নিয়মিত অপটিমাইজ (Optimize) করতে হবে। কারণ ওয়েবসাইট এর বেশীরভাগ ভিজিটর সার্চ ইঞ্জিন থেকেই পাওয়া সম্ভব। আর যদি সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর আসে তবে তাতে সবচেয়ে বেশি সিপিসি (CPC) দেয় গুগল অ্যাডসেন্স। অন্যান্য সোর্স থেকে আসা ভিজিটর এর তুলনায়। ফলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization) বা এস.ই.ও (SEO) করে ভিজিটর এর সাথে সাথে অ্যাডসেন্স থেকে আয়ও বাড়ানো সম্ভব।

 

এছাড়া আরো অনেক উপায় আছে ভিজিটর বাড়ানোর। যেমন ইমেইল মার্কেটিং (Email Marketing) বা নিউজলেটার (Newsletter), বিভিন্ন ফোরাম বা ব্লগে উপস্থিতি বাড়ানোর মাধ্যমে প্রোমোট করা, ব্লগ বা ওয়েবসাইট ডিরেক্টরি সাইটগুলোতে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ ইনডেক্স (Index) করা, আর.এস.এস ফীড (RSS Feed) ব্যবহার করা ইত্যাদি। আর সবসময় এগুলোর সঠিক ব্যবহারই পারে মানসম্মত ও প্রচুর পরিমানে ভিজিটর বাড়াতে।


আগের পোস্টঃ অ্যাডসেন্স সফলতার সূত্র – ১ : ভালো মানের কনটেন্ট


পরবর্তী পোস্টঃ


 

Leave a Reply