ওয়েবসাইট থেকে অর্থ আয়ের জন্য গুগল অ্যাডসেন্স (Google AdSense) সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলেও একই সাথে ভয়ংকর ও বটে। অনেক সময় সাধারণ একটু ভুলের কারণেও আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হতে পারে। আবার অনেক সময় জেনে শুনে ইচ্ছেকৃত করা কিছু কাজের কারণেও সাসপেন্ড হতে পারে। যদিও অনেকেই মনে করা তা গুগল অ্যাডসেন্স ধরতে পারবে না কিন্তু ঠিকই ধরে ফেলে। তাই জেনে নিন ঠিক কি কি কারণে অ্যাডসেন্স সাসপেন্ড করা হয়ে থাকে।

১. নিজের ওয়েবসাইট এর বিজ্ঞাপনে (Advertisement) ক্লিক করার কারণে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট এ দেখানো সাধারণ বিজ্ঞাপনে আপনি নিজেই ক্লিক করলে আপনার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হবে। আর লিংক অ্যাড (Link Ad Unit) এর ক্ষেত্রে লিংক এ ক্লিক করার পর নেক্সট পেইজ যেখানে আরো বিজ্ঞাপন থাকবে সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে আপনার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হবে। মনে রাখবেন, আপনি নিজের কম্পিউটার থেকে ক্লিক করেন আর অন্য কারো কম্পিউটার/সাইবার ক্যাফে থেকে। ধরে ফেলতে পারবে। তবে সাথে সাথে নয়। কিছুদিন টাইম নিবে। তাই আপনি বুঝতে পারবেন না ঠিক কেন সাসপেন্ড হয়েছে।

২. কাউকে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে অনুরোধ জানালেও আপনার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হবে। আবার কাউকে যদি আপনি ক্লিক করতে বাধ্য করেন সেক্ষেত্রেও সাসপেন্ড হবে। যেমন আপনি বিজ্ঞাপনের আশেপাশে ক্লিক করতে অনুরোধ জানালেন অথবা ওয়েবসাইট এ পপ-আপ (Pop-Up) ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছেন যেখানে বিজ্ঞপনে ক্লিক না করা পর্যন্ত ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করা সম্ভব না এসব ক্ষেত্রে আপনার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হবে। মনে রাখবেন পপ-আপ ব্যবহার করে অ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেখানো  একেবারেই নিষিদ্ধ।

৩. ক্ষতিকর বা নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট এ বিজ্ঞাপন দেখালে আপনার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হবে। এক্ষেত্রে এডাল্ট কনটেন্ট, অনেকেই দেখতে পারে না এমন কনটেন্ট যেমন গ্রাফিক্স ভায়োলেশন, ড্রাগস বিষয়ক কনটেন্ট ইত্যাদি নিষিদ্ধ। সেই সাথে অন্যের কপিরাইট করা কনটেন্ট অনুমতি না নিয়ে ব্যবহারও নিষিদ্ধ।

৪. অ্যাডসেন্স এর কোড (Ads Unit Code) কোনভাবে এডিট করলে বা কোডের কোন ভ্যালু (Value) চেঞ্জ করলে আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হবে। যদি কোন রকম চেঞ্জ করতে হয় যেমন আকার, রঙ, টাইপ তবে তা অবশ্যই অ্যাডসেন্স এর ওয়েবসাইট থেকেই করতে হবে। লাইভ কোড কোনভাবেই এডিট করা চলবে না। তবে এই রুলস রেস্পন্সিভ অ্যাড (Responsive Ad) কোড এর ক্ষেত্রে নয়। রেস্পন্সিভ অ্যাড কোড আপনি কিছু নিয়ম মেনে পরিবর্তন করতে পারবেন।

৫. গুগল অ্যাডসেন্স এর রুলসের বেশী পরিমাণ বিজ্ঞাপন ওয়েবসাইট এর কোন পেইজ এ বসানো যাবে না। এক্ষেত্রে সাধারণ অ্যাড (Ad Unit) ৩ টি, লিংক অ্যাড ৩ টি এবং সার্চ অ্যাড ২ টি হতে পারবে। অনেকেই টেক্সট অ্যাডকেই লিংক অ্যাড মনে করেন। আসলে তা নয়। লিংক অ্যাড হচ্ছে অনেকটা মেনুর মতো দেখতে কিছু বিজ্ঞাপন। এই পোস্ট এর শেষেও আপনি লিংক অ্যাড এর স্যাম্পল দেখতে পারেন। সাধারণ অ্যাড বলতে ইমেইজ/টেক্সট অ্যাডকেই বুঝানো হয়।

৬. কোন ইমেজ এর একদম সাথেই কোন বিজ্ঞাপন রাখা যাবে না। যাতে কোন ভাবেই ব্যবহারকারী অ্যাড এবং বিজ্ঞাপনকে মিলিয়ে একটি ছবি মনে না করে বা ছবি এবং বিজ্ঞাপনকে একই সাথে বিজ্ঞাপন মনে হয়। বিজ্ঞাপন এবং ছবির মাঝে কমপক্ষে ১৫ পিক্সেল ফাঁকা রাখা ভালো। এবং কনটেন্ট (Content) থেকেও কিছুটা দূরে বিজ্ঞাপন দেখাতে হবে। যাতে বিজ্ঞাপনগুলোর কারণে কনটেন্ট দেখতে কারো সমস্যা না হয়।

৭. ওয়েবসাইট এর পাশে বিজ্ঞাপনকে এমন ভাবে বসানো যাবে না যেখানে  ওয়েবসাইট এ স্ক্রল করে নিচের দিকে নামতে থাকলে পাশে থাকা বিজ্ঞাপনগুলো একই সাথে নামতে থাকবে। অর্থাৎ বিজ্ঞাপনগুলো সবসময় পাশেই অবস্থান করবে। এগুলোকে ফ্লোটিং অ্যাড (Floating Ad) বলা হয়।

এছাড়া আরো কিছু নিয়ম অবশ্যই মানতে হবে। যেমন ওয়েবসাইট এর ডিজাইন এবং কনটেন্ট এর মান ভালো রাখা, পর্যাপ্ত কনটেন্ট রাখা যাতে ভিজিটর আবার আসতে আগ্রহী থাকে, একটি পেইজ থেকে অন্য পেইজগুলোর লিংক এর পরিমাণ হতে হবে গ্রহণযোগ্য পরিমাণে,  ওয়েবসাইট এর লোডিং টাইম হতে হবে অল্প ইত্যাদি। এবং অবশ্যই নিয়মিত গুগল ওয়েবমাস্টার টুলস দেখবেন। কেনোনা ওয়েবসাইট এ কোন সমস্যা থাকলে গুগল তা ওয়েবমাস্টার টুলস এই দেখাবে।

সবসময় অ্যাডসেন্স এর ব্লগ এ আপডেট থাকুন। যাতে যেকোনো নিয়ম পরিবর্তন সাথে সাথেই জানতে পারেন এবং সেই সাথে অ্যাডসেন্স রুলসের সাথে আপনার ওয়েবসাইটও আপডেট (Update) রাখতে পারেন।

Leave a Reply