আপওয়ার্ক প্রোফাইল

আপওয়ার্ক প্রোফাইল – কাজ পেতে আদর্শ প্রোফাইল

by Moin Uddin Ahmed Tipu
389 views

অনেকেই প্রশ্ন করেন আপওয়ার্কে প্রথম জব কেন পাচ্ছেন না? বা নিয়মিত জব পেতে কেন সমস্যা হচ্ছে। এর একটা বড় কারণ হতে পারে আপনার আপওয়ার্ক প্রোফাইল। হা ঠিকই বলা হচ্ছে। সবার প্রথমেই ক্লাইন্ট দেখবে আপনার প্রোফাইল। আপনি যতোই দক্ষতা নিয়েই কাজে নামতেছেন না কেন প্রোফাইল দেখেই তা বিবেচনা করতে পারবে ক্লাইন্ট। তাই শুরুতেই আপনার প্রোফাইলের প্রতি নজর দিতে হবে।

 

কিভাবে আপওয়ার্ক প্রোফাইল সাজাবেনঃ

যেহেতু শুরুতেই নতুন কোন ক্লাইন্ট হায়ার করতে আসলে আপনার প্রোফাইল দেখতে পারবে সেহেতু শুরুতেই আপনাকে আপওয়ার্ক প্রোফাইল সাজিয়ে নিতে হবে। সেকারণে আপনার জানা দরকার প্রোফাইলের কোথায় কোন বিবরণ দিতে হবে এবং কিভাবে। আর অবশ্যই সম্পূর্ণ প্রোফাইল সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। আসুন জেনে নেই কিভাবে?

 

Overview: প্রোফাইলের শুরুতেই রয়েছে ওভারভিউ বা সংক্ষিপ্ত বিবরণ। এখানে আপনি কে, কি করেন, কি করতে পারেন এবং শিক্ষা বিষয়ক তথ্য দিতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় শুরুতে আপনার ছোট করে পরিচয়, এরপর আপনার স্কিল সমূহ, কোথা থেকে শিখেছেন বা কেন এই স্কিল আপনার ভালো লাগে ইত্যাদি লিখতে পারেন। আর চেষ্টা করবেন সুন্দর করে গুছিয়ে মার্জিত ভাষায় লিখতে। বানান ভুল বা এলোমেলো শব্দ যেন না থাকে সেদিকে পূর্ণ দৃষ্টি দিন। আপনি ৫০০০ শব্দের ভিতর ওভারভিউ লিখতে পারবেন। কিন্তু ১০০০ শব্দের ভিতর গুছিয়ে লিখতে পারলে সবচেয়ে ভালো। আর প্রথম ২৫০ শব্দ ক্লাইন্ট শুরুতেই দেখতে পারবে। তাই সবচেয়ে জরুরী বিষয়গুলো প্রথমেই লিখতে চেষ্টা করুন। অন্য বিষয়গুলো পরের পয়েন্টগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

Picture/Photo: আপনার ছবি আপনার সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে। মুখে হাসি নিয়ে সামনের দিকে তাকানো একটা ছবি হলেও আপনার কাজ পাবার চান্স বাড়বে। ছবি চয়েসের ক্ষেত্রে প্রফেশনাল ছবি ব্যবহার করলে কাজ পাবার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। ছবি তোলার ব্যাপারে কিছু টিপস এবং পর্যাপ্ত উদাহারণসহ আপওয়ার্কের Guide for Your Perfect Profile Picture পোস্টটি দেখতে এবং ফলো করতে পারেন।

 

Hourly Rate: প্রতি ঘণ্টায় আপনি কতো হলে কাজ করবেন সেটা খুব ভেবে চিন্তে সেট করুন। আপনার স্কিল এবং দক্ষতার যথাসম্ভব যাচাই করে সেভাবেই সেট করতে চেষ্টা করুন। যাতে রেট খুব বেশি বা খুব কম না হয়। আপনার দক্ষতা কিরকম এবং আপনি সেই দক্ষতা সম্পর্কে কতোটুকু অভহিত তাও এই ঘণ্টা প্রতি রেট দিয়ে ক্লাইন্ট বুঝতে পারবে। অবশ্যই স্কিল অনুসারে এক একজনের ক্ষেত্রে এই রেট এক এক রকম হবে সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। আর বিড করার সময় এই রেট এর সাথে মিল রেখেই বিড করবেন। যেমন আপনার ঘণ্টা প্রতি রেট যদি ৫ ডলার হয় তাহলে ৪ থেকে ৬ ডলার রেট এর ভিতরেই বিড করুন। তবে কোন ভাবেই খুব কম বা খুব বেশি চাইবেন না। যেমন প্রোফাইলে লিখা ৫ ডলার কিন্তু চাইলেন এক ডলার বা ১০ ডলার। এতে শুরুতেই ক্লাইন্ট আপনাকে নেগেটিভ হিসেবে নিয়ে প্রপোজাল বাতিল করবে।

 

Skills: Skills বা স্কিলও খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সঠিকভাবেই নির্ধারণ করতে হবে। আপনি যেসকল বিষয়ের উপর কাজ জানেন, যেসকল বিষয়ে আপনার দক্ষতা রয়েছে সেসকল স্কিল নির্ধারণ করুন। অনেকসময় ক্লাইন্ট নির্দিষ্ট স্কিলের উপর ফ্রীল্যান্সারদের প্রোফাইল সার্চ করে থাকে এবং সঠিক স্কিল বাছাই করার মাধ্যমে আপনি সেই সার্চ লিস্টে স্থান পেতে পারেন। তাছাড়া আপওয়ার্ক থেকে নিয়মিত আপনার স্কিলের উপর ভিত্তি করে সেসকল স্কিলে আসা নতুন জব সাজেশন করবে বিড করার জন্য। জব ফিডেও এসকল স্কিলের উপর থেকেই জব দেখানো হবে। তাই ভুল স্কিল বাছাই করলে বরং আপনি সঠিক কাজগুলো ফিডে পেতে মিস করবেন।

 

Take Tests: আপনি যেসকল স্কিল নির্ধারণ করবেন, সেগুলোর উপর পরীক্ষা দিন এবং তা প্রোফাইলে দেখান। কেননা এর মাধ্যমে আপনি আপনার দক্ষতা সম্পর্কে ক্লাইন্টকে বলতে পারছেন। তবে শুধুমাত্র আপনি যেসকল স্কিলে দক্ষ সেগুলোই বাছাই করুন পরীক্ষা দিতে। যদি প্রথম চেষ্টায় ভালো ফলাফল না পান, কিছুদিন সময় নিয়ে আবারো চেষ্টা করুন পরীক্ষা দিতে এবং আগের থেকে ভালো রেজাল্ট করতে।

 

Build a Portfolio: পোর্টফলিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যেসকল কাজ পারেন এবং করেছেন সেগুলোই এখানে তুলে ধরুন। ওয়েবসাইট ডিজাইনার হলে ওয়েবসাইটের লিংক দিন যেগুলো আপনি তৈরি করেছেন। গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলে আপনার তৈরি করা কিছু লোগো বা অন্যান্য গ্রাফিক্সের নমুনা দিন। লেখক হলে আপনার ব্লগে থাকা আপনার লেখার লিংক দিন। এভাবে ক্লাইন্টকে আপনার কাজের নমুনা দেখাতে পারছেন এবং আপনি কতোটুকু দক্ষতা রাখেন তাও বুঝাতে পারছেন। অনেকসময় একটি সঠিক পোর্টফলিও অনেক কাজ এনে দিতে পারে। তাই সুন্দরভাবে আপনার প্রোফাইল কাজের নমুনা দিয়ে সাজিয়ে তুলুন।

 

Certifications: আপনার স্কিলের উপর যদি সার্টিফিকেট থাকে যেমন যেখানে কোর্স করেছেন সেখান থেকে দেয়া বা অনলাইনে পরীক্ষা দিয়ে নেয়া সার্টিফিকেটগুলো দেখাতে পারেন। অনেক স্কিলের উপর অনলাইন কোর্স রয়েছে যেগুলো স্কিলগুলোর ডেভেলপার থেকেই দেয়া হয় সেগুলো এক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যদিও কিছু স্কিলের উপর কোন রকমের সার্টিফিকেশন থাকে না সেক্ষেত্রে এড়িয়ে যান অথবা শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট দেয়া যায়। যদিও সরাসরি কাজ পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট কাজে আসে না তবে প্রোফাইল সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন বিধায় দেয়া যায়। আর এডুকেশনের ব্যাপারে আলাদা মেনু রয়েছে। সেখানে সার্টিফিকেট আপলোড না করলেও চলবে।

 

Employment History: যদি আপনি কোথাও পূর্বে চাকরি অথবা পার্টটাইম কাজ করে থাকেন তাহলে সেগুলো এখানে উল্লেখ্য করতে পারেন। অনেকসময় সরাসরি কাজে না আসলেও অভিজ্ঞতা বুঝতে ক্লাইন্টকে এই তথ্য সহায়তা করে। যদি একাদিক স্থানে চাকরি করে থাকেন, বাছাই করে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনাগুলো যুক্ত করুন। আর যদি পূর্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে ভুল তথ্য দেয়া উচিৎ হবে না।

 

Be Honest: যথা সম্ভব সত্য উপস্থাপন করুন। আপনি ইংলিশ কম পারেন, তাহলে যতোটুকু পারেন সেটাই বলুন। কেননা ক্লাইন্ট ঠিকই জেনে যাবে আপনি কতোটুকু দক্ষ। আর কাজ করতে খুবই কম ইংলিশ জানা বা কথোপকথন প্রয়োজন হয়। যদি আপনি কাজে আসলেই দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে কথা না বলেই আপনি সহজে কাজ সম্পূর্ণ করতে পারবেন। ফলে আপনার ইংলিশ না জানা বা এরকম কিছুই লুকাতে হবে না। সঠিকটি লিখুন। কাজ পেতে সহায়তা হবে। এক্ষেত্রে যে শুধু ইংলিশ কম জানেন সেটা বলবেন তা কিন্তু নয়। অনেক সময় সহায়ক স্কিল কম পারতে পারেন সেটা বলতে পারেন যেমন ওয়েব ডেভেলপার হলে যদি জাভাস্ক্রিপ্ট কম পারেন সেটা বলুন। অথবা গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে কাজ করার সময় ডিএফপি কম পারেন সেটা বলুন। লুকানোর কোন প্রয়োজন নেই। বরং লুকালে ক্লাইন্ট মিথ্যাবাদী হিসেবেই দেখবে এবং আপনাকে কাজ দিতে চাইবেও না।

 

আশা করছি এই তথ্যগুলো অনুসরণ করে সঠিকভাবে আপনার প্রোফাইল সাজিয়ে নিতে পারবেন। আপনাকে অবশ্যই প্রোফাইলের প্রতি নিয়মিত সময় দিতে হবে। যত বেশি প্রোফাইল আপডেট রাখবেন ততবেশি কাজ পাবার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারবেন। যদি আপনি নিয়মিত কাজ পেয়েও থাকেন তাহলেও নিয়মিত প্রোফাইলে সময় দেয়া উচিৎ।

কোন মন্তব্য থাকলে বা কিছু না বুঝলে আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।

Related Posts

Leave a Comment