বর্তমানে অনেকেই একজন সফল ফ্রীল্যান্সার হতে চায়।এ জন্য কেউ হয়তো কোন বন্ধু, বড় ভাই অথবা বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার থেকে কাজও শিখেছেন।কাজ খুঁজছেন।কিন্তু সফল হতে পারছেন না। অথবা কেউ প্রথম থেকেই শুরু করতে যাচ্ছেন কিন্তু সে ক্ষেত্রেও সফল হতে পারছেন না। আর এর পিছনে অল্প কিছু কারণ থাকতে পারে। যা হয়তো মনে হবে সামান্য ব্যাপার কিন্তু এগুলোই আপনাকে সফল হতে ব্যর্থ করতে পারে। তাই এ ব্যাপারগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়াটাই সবচেয়ে ভাল।

নিজেকে কিভাবে গড়ে তুলতে হবে সফল হতে: নিজেকে সফল ফ্রীল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে সবার প্রথমেই যা প্রয়োজন তা হচ্ছে ভাল ব্যবহার। হ্যা, আপনি ঠিকই শুনছেন। আপনি হয়তো এই বিখ্যাত কথাটি অনেকবারই শুনেছেন “ব্যবহারেই বংশের পরিচয়”। ঠিক সেভাবেই এটাও ঠিক যে আপনার ব্যবহারই প্রকাশ করবে আপনি কাজের জন্য কতটুকু ভরসা যোগ্য। কেন? অনেক সময় দেখা যায় ক্লাইন্টের সাথে কাজের বিষয়ে কথা বলার সময় অনেকেই খারাপ ব্যবহার করে থাকে। আবার এমনও আছে যে ক্লাইন্ট কাজ দিবে না বুঝতে পেরে অনেকেই বাজে ব্যবহার ও করে থাকে। আর এটা একটা চরম ভুল। দেখা গেল ক্লাইন্ট যাকে কাজ দিবে ভেবেছে তার কোন ভুল বা চুক্তি না হলে ক্লাইন্ট আপনার কাছে ফিরে আসার পথ আর পাচ্ছেনা। কেননা আপনি খারাপ ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে আপনার উপর ভরসা রাখার মন নষ্ট করে দিয়েছেন। আমার ক্ষেত্রেই এমন অনেকবার হয়েছে যে ক্লাইন্ট আমাকে কাজ দিবে না বুঝেও আমি তাদের বলি যদি কোন সাহায্য প্রয়োজন হয়, তারা আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। যথাসাধ্য চেষ্টা করবো তাদের সাহায্য করতে। সেই সাথে একটা ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নেই। এর ঠিক কয়েকদিন পরই সেই ক্লাইন্ট আমাকেই তার কাজের জন্য নিয়োগ করে। তাই ভাল ব্যবহারের অভ্যাসটি হয়তো আপনার জন্য সুফলই বয়ে আনবে।
আরও একটা কারণ আছে। অনেক সময় কাজ করার সময় ছোটখাটো সমস্যায় অন্যের সাহায্য নিতে হয়। আর এসব ক্ষেত্রে অনেকেই সাহায্য নেয়ার পর যে সাহায্য করেছে তাকে একটা ধন্যবাদ দেয়ারও প্রয়োজন মনে করেনা। আর এ ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় পরবর্তীতে তারা আর সঠিক তথ্য দিয়ে আর সাহায্য করেনা। আবার অনেক সময় যার কাছে সাহায্য নিতে যাওয়া হয় তারা তেমন চেনা জানা না থাকলেও তাদেরকে তুই বা তুমি বলেও সম্বোধন করা হয়। যা অনেক সময় তাদেরকে ছোট করে এবং তাদের সাহায্য করার মন মানুসিকতা নষ্ট করে দেয়। তাই ফ্রীল্যান্সার হিসেবে সফল হতে ভাল ব্যবহার এর প্রয়োজনীয়তা অনেক।

 

কাজে নামার আগের প্রস্তুতিঃ অনেকেই আছে বিন্দু মাত্র ধারণা নিয়েই ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে নেমে পরে। কিন্তু তাদের অনেকেই জানেনা তারা কি কাজ জানে এবং কি কাজ করতে পারে। এটাও তাদের অজানা যে কাজ করতে হয় কিভাবে। যার ফলে তারা যখন কাজ খুঁজতে থাকে, তাদের অজ্ঞতা তাদের কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে। আবার অনেকেই কোন ট্রেনিং সেন্টার বা কারো থেকে একটু কাজ শিখেই কাজ করতে নেমে পরে। যার ফলে তাদের কাজের মান হয় খুবই খারাপ। তাই কাজ করতে নামার আগে ভালোভাবে প্র্যাকটিস না করা, যথাসম্ভব রিসার্চ না করা, প্রয়োজনীয় টুলস/সরঞ্জাম এর ব্যবস্থা করে না রাখায় তারা কাজে সফল হতে পারে না। তাই এ ক্ষেত্রে একটি বিষয়ের উপর কাজ শিখার পর তা নিয়ে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি না করে কাজে নেমে পড়লে তাতে ব্যর্থতাই আসবে।

 

কাজের মান ও সময়জ্ঞানঃ ফ্রীল্যান্সার হিসেবে সফল হতে না পারার আর একটা বড় কারণ হতে পারে কাজের মান ধরে রাখতে না পারা এবং সময়মতো কাজ সম্পূর্ণ না করা। কারণ আপনি ভালো মানের কাজ করতে না পারলে তা ক্লাইন্টের কাজে আসবে না এবং দুইজনেরই সময় নষ্ট হবে। সেই সাথে হয়তো ক্লাইন্টের ক্ষতিও। আর এমনও হতে পারে যে সময়ের ভিতর ক্লাইন্টের কাজটি সম্পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন ছিল সে সময়ের অনেক পরে কাজটি আপনি সম্পূর্ণ করলেন। যার ফলে ক্লাইন্টের কাছে আর এই কাজের মূল্য থাকছেনা। এবং এর ফলে আপনি সময় এবং অর্থ হারানোর পাশাপাশি হয়তো ক্লাইন্টের থেকে ব্যাড ফিডব্যাক ও পেতে পারেন। যা আপনার এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

অর্থহীন কাজ শিখাঃ অর্থহীন কাজ শিখা বলতে এখানে বেশ কিছু বিষয় বুঝানো হয়েছে। যেমন আপনি চাহিদা বেশি জেনে আপনি একটা কাজ শিখলেন যার প্রতি আপনার আগ্রহ বলতে নেই। শুধু বেশি বেশি কাজ পাওয়া যায় বা এর মাধ্যমে বেশি পরিমাণে অর্থ আয় করা যায় জেনেই তা শিখেছেন আপনি। এ ক্ষেত্রে আপনার কাজের মান ভালো রাখা সম্ভব হবেনা। ফলে আপনি হয়তো কাজ পেয়েও মান ভালো রাখতে না পারায় বা কাজে ঠিক ভাবে সময় না দেয়ায় কাজটি হারাচ্ছেন বা ব্যাড ফিডব্যাক পাচ্ছেন। আবার এমনও হতে পারে আপনি সম্পূর্ণ কাজ না শিখে অথবা যেখানে কাজ শিখতে গিয়েছেন তারা আপনাকে সঠিকভাবে কাজ না শিখালে সেটাও আপনার কাজের মান খারাপ করে দিতে পারে। তাই কাজ শিখতে যাওয়ার পর সম্পূর্ণ কোর্স করতে হবে এবং ভালো প্রতিষ্ঠান থেকেই শিখতে হবে। আর এজন্য ভর্তি হবার আগে ট্রেনিং সেন্টারটি সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ করে নিন।

 

ইন্টারনেট এর দুর্বলতাঃ অনেক এলাকাতেই বর্তমানে ইন্টারনেট খুবই দুর্বল। তাই এক্ষেত্রে ব্যাকআপ ইন্টারনেট এর ব্যবস্থা না রেখে কাজ করতে নামা অথবা প্রয়োজনে এলাকা পরিবর্তন না করে কাজ করতে নামাটা হবে একটা বোকামি। কারণ দুর্বল ইন্টারনেট এর কারণে সময়মতো ক্লাইন্টকে তার কাজ বুঝিয়ে দিতে না পারলে হয়তো আপনার ব্যাড ফিডব্যাকই যোগ হবে। আর যদি এমন পরিস্থিতিতে কাজ করতেই হয় তবে আপনার কাজের উপর এবং ইন্টারনেট কতোটা দুর্বল তার উপর ভিত্তি করে ক্লাইন্টের থেকে বাড়তি সময় নিয়ে নিতে পারেন।

 

আপ টু ডেটঃ ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে হলে সবচেয়ে বেশি যেটার প্রয়োজন তা হল নিজেকে আপডেট বা আপ টু ডেট রাখা। কেননা সময়ের সাথে সাথে সবকিছুর পরিবর্তন ঘটে। আপনি যা দুই বছর আগে শিখেছেন তা হয়তোবা দুই বছর পর অর্থহীন হয়ে যাবে এবং আরও নতুন এবং আপডেটেড কিছু আসবে যা আপনার ক্লাইন্ট চায় কিন্তু আপনি সে সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে গেলেন। ফলে কাজটি হারাচ্ছেন। তাই সময়ের সাথে আপনার কাজের বিষয়ের উপর আপডেট থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সে জন্য অনলাইনে আপনার কাজের বিষয় রিলেটেড ফোরাম, ব্লগ, ইউটিউব এ নিয়মিত আপডেট থাকা ভালো।

 

সার্চ ইঞ্জিন এর ব্যবহারঃ একজন সফল ফ্রীল্যান্সার হতে সার্চ ইঞ্জিন এর সম্পর্ক রয়েছে। খুবই গভীর সম্পর্ক। যদি আপনি অনলাইনে কাজ করতে করতে কোথাও আটকে যান বা কোন বিষয় বুঝতে বা কোন সমস্যার সমাধান খুঁজে না পান তবে সেক্ষেত্রে অন্যদের সাহায্য নিতে হতে পারে। কিন্তু এমনও অনেক সময় আসে যখন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায় না। আর এসব ক্ষেত্রে একমাত্র সার্চ ইঞ্জিন থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করা সম্ভব হয়। তাই কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করতে হয় তা জেনে রাখা ভালো। এবং নিয়মিত সার্চ করতে থাকার চেষ্টা করা ভালো।

 

নতুন ও নতুনত্বঃ এই ব্যাপারটি আসলেই একটু বেশি ব্যতিক্রম। আপনার হাতে যখন কোন কাজ নেই বা অফ টাইমে আছেন তখন বসে না থাকে একটু নতুন কিছু করার জন্য খুঁজে বের করতে চেষ্টা করুন। ইন্টারনেট এ ঘুরতে থাকুন। নতুন কিছু জানতে চেষ্টা করতে থাকুন। আর চেষ্টা করুন নতুন কোন সার্ভিস শুরু করতে যা কোনও না কোনও ক্লাইন্টের লাগতে পারে এবং সেই সাথে আরও অনেকেরই। তাই এমন কিছু খুঁজে বের করতে চেষ্টা করুন যা নতুন, কাজের এবং প্রয়োজন অনেক। যার ফলে হয়তো আপনার চাহিদা এবং কাজের গুরুত্ব অনেকেই বুঝতে পারবে এবং আপনার কাজের পরিমাণ সেই সাথে বাড়তে থাকবে।

চলবে…

Leave a Reply