March 29, 2015
মঈন উদ্দিন আহমেদ টিপু (59 articles)
0 comments
Share

আপওয়ার্ক কভার লেটার লিখার বিষয়ে কিছু টিপস

আপওয়ার্ক বা অন্যান্য মার্কেটপ্লেসগুলোতে নতুন জবে অ্যাপ্লাই করার সময় কভার লেটার সবচেয়ে বেশী ভূমিকা পালন করে। একটি সুন্দর, ছোট এবং মার্জিত কভার লেটার জব পেতে ৯০% পর্যন্ত সহায়তা করতে পারে। আর অনেকেই কভার লেটার লিখার সময় সাধারণ কিছু ভুল করে থাকে। যার ফলে প্রথমেই তারা রিজেক্ট হিসেবে চলে যান।

কিভাবে লিখবেন কভার লেটার? কিভাবে লিখলে জব পাওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যাবে? কিভাবে লিখলে আপনি সহজেই ক্লাইন্টের চোখে পড়বেন? সেটাই আজকের আলোচনার বিষয়।

  • প্রথমেই জব পোস্টটি ভালোভাবে পড়ুন। বুঝতে চেষ্টা করুন ক্লাইন্ট কি চেয়েছে এবং তার জব এর ক্ষেত্রে কি কি বিষয় ক্লাইন্ট অবগত নন। বা কি কি ভুল রয়েছে। সেই সাথে প্রয়োজনে গুগল করে জবটির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় রিসার্চ করে নিন। এবং প্রয়োজনে কভার লেটার লিখার আগেই একাধিক বার পোস্টটি পড়ে নিন।
  • এবার কভার লেটার লিখার সময় প্রথমেই তার নাম জানা থাকলে তার নাম উল্লেখ করে সম্বোধন জানান। যেমন “Dear Mr. Derick” or “Mr. Derick” ইত্যাদি। নাম জানা না থাকলে “Dear Hiring Manager,”  ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু একটু স্মার্ট হতে গিয়ে “Hey Derick,” “What’s up, Derick?” ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না। এতে আপনি রিজেক্ট হতে পারেন।
  • এরপরের লাইনেই তার প্রোজেক্ট এর ব্যাপারে তার যে সকল সমস্যা হচ্ছে তা নিয়ে ছোট একটি প্যারাগ্রাফ লিখুন। যেমন ধরুন তার প্রোজেক্ট পোস্ট এর ভুল সমূহ, প্রোজেক্ট এর সফলতা অর্জনের পদক্ষেপ ইত্যাদি। তবে যতোটা সম্ভব ছোট করে কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করুন। আর এখানে প্রোজেক্টটি কিভাবে সম্পূর্ণ করলে সবচেয়ে ভালো হতে পারে তাও উল্লেখ্য করতে পারেন।
  • এরপর আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে একটি ছোট প্যারাগ্রাফ লিখুন। এক্ষেত্রেও আপনাকে অল্প কথায় যতোটা সম্ভব বর্ণনা দিতে হবে।
  • এবার সর্বশেষ প্যারাগ্রাফ এ আপনি কিভাবে তার কাজটি শেষ করবেন তা নিয়ে একটি ছোট প্যারাগ্রাফ লিখুন।  এক্ষেত্রে প্রধানত সংক্ষেপে আপনার কাজের ধাপ উল্লেখ্য করবেন। ক্লাইন্ট কিন্তু অবশ্যই কাজের ধাপগুলো কি হতে পারে তা জানে। তাই এক্ষেত্রে যদি আপনার কাজের ধাপ তার জানার সাথে মিলে যায়, কাজ পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই বেড়ে যাবে। তবে কিছু কিছু ব্যাপার এখানে বলা ঠিক না। প্রধানত প্রতিটা কাজেই কিছু ব্যাপার থাকে যা সাধারণত ট্রিকস হিসেবেই আমরা বলি। আর এই ট্রিকসগুলো অনেক সময় কাজ পাওয়ার কারণ হয়ে দাড়ায়। উদাহারণ দিয়ে বলা যায় যে ক্লাইন্ট সেই এক বা একাদিক ব্যাপার জানেনা বলেই সে কাউকে হায়ার করতে চাচ্ছে। যে তার কাজটি করে দিবে। এক্ষেত্রে আপনি সেই ব্যাপারটি বলে দিলে অবশ্যই আপনি কাজটা হারাতে পারেন। কারণ সে নিজেই এখন কাজটি করে ফেলতে পারবে। আর কাজটি করতে কতো সময় লাগতে পারে তার ব্যাপারেও এখানে বলতে পারেন। আর সবসময়েই চেষ্টা করবেন এক্সট্রা টাইম সহ সঠিক টাইম বলতে। যে সময়ের ভিতর আপনি শেষ করতে পারবেন।
  • সর্বশেষে ধন্যবাদ দিয়ে পরের স্টেপ এ চলে যান। অনেক সময়েই দেখবেন ক্লাইন্ট বেশ কিছু প্রশ্ন করে থাকে। চেষ্টা করুন সেখানে যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেয়ার জন্য। আর কোনমতেই বক্সটি শুন্য রাখবেন না। যদি উত্তর দেয়া সম্ভব না হয় তবে গুগল করে উত্তর জেনে নিতে চেষ্টা করুন। আর এখানে মিথ্যে বলাটা একটা বড় ভুল। ক্লাইন্ট এখানের উত্তর অনুযায়ী আপনাকে ইন্টারভিউ নেয়ার সময় প্রশ্ন করতেই পারে এবং তখন হয়তবা আপনি আটকে যাবেন।
  • সবসময়েই চেষ্টা করবেন যতোটা সম্ভব ছোট করে কভার লেটার লিখতে। কেনোনা ক্লাইন্ট কোন গল্প পড়তে আসেনি। যতো বড় করবেন তার জন্য ততোই বিরক্তির কারণ হতে পারে। যার কারণে বেশীরভাগ ক্লাইন্ট সাধারণত বড় কভার লেটারগুলো এড়িয়ে যান। আর ক্লাইন্ট না চাইলে লিংক/ফাইল ইত্যাদি দেয়া থেকে বিরত থাকুন। ক্লাইন্টের তা প্রয়োজন হলে জব পোস্টেই তা উল্লেখ করবে। অনেক সময় ক্লাইন্ট বলেই দিবে লিংক বা ফাইল যুক্ত না করার জন্য। সেক্ষেত্রে আরো সতর্ক থাকা ভালো। কারণ আপনি তাও ফাইল বা লিংক যুক্ত করলে ক্লাইন্ট ধরেই নিবে আপনি জব পোস্ট পড়েননি।
  • সবসময়েই মার্জিত ভাষায় কভার লেটার লিখবেন। কপি পেস্ট কখনোই না। কেনোনা ক্লাইন্ট তা সহজেই ধরতে পারবে। আর কপি পেস্ট কভার লেটার সবচেয়ে বেশী রিজেক্ট হয় সাধারণত। যেহেতু আপনার একটি ছোট কভার লেটার লিখার মতো দুই মিনিট সময় নেই সেহেতু আপনার অবশ্যই কাজ করার সময়টিও নেই। তাছাড়া কপি পেস্ট করা কভার লেটার ব্যবহার করে কাজের ব্যাপারে ঠিকভাবে ক্লাইন্টকে বলা যায় না এবং তাতে ক্লাইন্টের মনে হতে পারে আপনি জব পোস্ট না পড়েই আবেদন করেছেন। সে ক্ষেত্রে বাদ পড়াটাইতো স্বাভাবিক।
  • অনেক সময় কিছু কিছু জবের ক্ষেত্রে আরো সংক্ষেপে কভার লেটার লিখতে হয়। বিশেষত যখন ক্লাইন্ট জব ডেসক্রিপশনে বলেই দেয় যে সে এখনই কাউকে হায়ার করতে চাচ্ছে। এক্ষেত্রে সময় থাকে কম এবং ক্লাইন্টও দ্রুত কভার লেটার পড়ে দেখতে চায়। তাই যতো সংক্ষেপে বিস্তারিত বলা যায় ততোই হায়ার হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। এরকম কয়েকটি কভার লেটার এর ছবি নিচে যুক্ত করে দিলাম। বলা বাহুল্য যে এগুলোর সবগুলোতেই একমাত্র আমাকেই ইন্টারভিউ এ ডাকা হয় এবং হায়ারও করা হয়। কভার লেটারগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন কেন ক্লাইন্ট আমাকেই বেঁছে নেয়। আর প্রতিটা জবের ক্ষেত্রেই কিন্তু অনেক প্রতিযোগী ছিল।

আশা করবো এই পোস্টটি পড়ে আপনারা আরো সতর্কতার সাথে জব এর জন্য অ্যাপ্লাই করবেন এবং বুঝে শুনেই কভার লেটার লিখবেন। আর কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে সবসময়েই আছি।

 

কভার লেটার স্যাম্পল

কভার লেটার

কভার লেটার

কভার লেটার

কভার লেটার

কভার লেটার

কভার লেটার

মঈন উদ্দিন আহমেদ টিপু

মঈন উদ্দিন আহমেদ টিপু

Moin Uddin Ahmed Tipu (Bengali: মইন উদ্দিন আহমেদ টিপু) (born January 08, 1992) is a computer expert. Moin was born in Chittagong, a city of Bangladesh. Moin is 24 years old Bangladeshi Young Entrepreneur, Online Social Media Entrepreneur, Web Developer/Designer and Online Marketing Consultant live in Chittagong, Bangladesh.

Related articles

Sorry, no posts were found.

Comments

No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write comment

Only registered users can comment.