বর্তমানে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ওয়েবসাইট এর প্রয়োজন বাড়ছে। কেননা খুব সহজেই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সবার সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি অনলাইনে পণ্য বিক্রি, ব্যবসায়িক কাজ ইত্যাদি করা যায় খুব সহজে। তাই এজন্য দিন দিন সবার মাঝে ওয়েবসাইট এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু একই সাথে পছন্দমতো নামের ওয়েবসাইট পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যদিও সবার ইচ্ছে থাকে সুন্দর আকর্ষণীয় এবং পছন্দের একটি নাম বাছাই করতে এবং সেই নামের ডোমেইন কিনে ওয়েবসাইট তৈরি করতে। আর এক্ষেত্রেই আসে অনলাইন ব্যবসার আরেকটি ক্ষেত্র। তা হচ্ছে ওয়েবসাইট এবং ডোমেইন কেনা বেচা। তবে হোস্টিং সেবাদাতারাও একই সেবা দিয়ে থাকে কিন্তু এক্ষেত্রে পুরো ব্যাপারটি একদম ভিন্ন। আসলে এখানে আপনাকে আগেই ওয়েবসাইট বা ডোমেইন কিনে রাখতে হবে পরবর্তীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে। আর এমন ওয়েবসাইট বা ডোমেইনই কিনতে হবে যা এখন খালি আছে কিন্তু সামনে কারো প্রয়োজন পরবে।

 

ডোমেইনঃ মূলত ডোমেইন (Domain) কেনাবেচার জন্য কিনতে চাইলে আপনাকে অনেক কিছুই মাথায় রাখতে হবে। সবার প্রথমেই হচ্ছে আকর্ষণীয় ও অর্থবহ নাম। কেননা আকর্ষণীয় নাম হলে ভিজিটরদের কাছেও ভালো লাগবে আর সেটাই ডোমেইনটার ভ্যালু বাড়াতে সক্ষম। এছাড়া সহজে মনে রাখা যায় এমন ডোমেইন বাছাই করা জরুরী। যতবেশি ছোট নাম হবে ততো চাহিদা বাড়বে। আর অবশ্যই ডোমেইন ক্রয় করার পূর্বেই ডোমেইন এর চাহিদা কতটুকু হতে পারে তা রিসার্চ করে নিতে হবে।

মনে রাখতে হবে যতটা না সহজ মনে হয় ব্যাপারটা আদতে ততটাই কঠিন। প্রথমত বেশীরভাগ ডোমেইন অনেক আগেই ক্রয় করা হয়ে গেছে ফলে একটা ডোমেইন কিনতে আপনাকে অনেক অনেক সার্চ করতে হবে কিনা হয়নি এমন ডোমেইন খুঁজে পেতে। দ্বিতীয়ত ডোমেইনটির ভ্যালু কেমন হতে পারে তা জানতেও কঠিন সমস্যা হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে আগে মার্কেট অনেকদিন ঘুরে দেখে আইডিয়া নিয়ে নেয়া ভালো।

আবার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিন্তু ডোমেইন রিনিউ করা হয়নি এমন ডোমেইনও ক্রয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে দেখতে হবে ডোমেইনটি পুনরায় বিক্রয় হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু। যদি সম্ভাবনা কম থাকে তবে হয়তো ডোমেইনটি বিক্রয় হতে অনেক সময় নিবে। আবার বিক্রয় নাও হতে পারে। আর অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে মেয়াদ শেষ এমন ডোমেইন নামের লিস্ট পাওয়া যায় ফ্রীতে। সেখানে নিয়মিত লক্ষ্য রাখতে হবে।

 

ওয়েবসাইটঃ ওয়েবসাইট (Website) তৈরি করেও সেটা বিক্রয় করে আয় করা যায়। এক্ষেত্রে এমন সব ওয়েবসাইটগুলোই বিক্রি হয় যা থেকে প্রফিট বা লাভ পাওয়া সম্ভব। কেননা যে কিনবে তার জন্য সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভালো ও যুক্তিসঙ্গত ডোমেইন এবং ভালো মানের কনটেন্ট ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। আর যদি ইউনিক আইডিয়া ব্যবহার করে কোন ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় তবে আরো ভালো। যেমন আমার এক পরিচিত ক্লাইন্ট কিছু ওয়েবসাইট বিক্রয় করেছে যেই ওয়েবসাইট থেকে আপনি গোপন থেকে আপনার পছন্দের কাউকে মেইল পাঠাতে পারবেন যেই মেইল এ থাকবে আঁচারের টুকরো অথবা গ্লীটার নামক চকচকে জরি দিয়ে তৈরি করা মেইল যা খুললেই প্রাপকের সাড়া শরীরে মেখে যাবে অথবা পচা কোন কিছু যা গন্ধ ছড়াবে । আর ওয়েবসাইটগুলো মূলত ই-কমার্স (E-Commerce) সাইট। তবে ব্লগ, ওয়েবসাইট ইত্যাদিও বিক্রয় হয়। এবং ভালো আইডিয়া হলে চাহিদা অনেক বেশী।

 

কিভাবে শুরু করবেনঃ  প্রথমেই আপনাকে মার্কেট বুঝতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি মার্কেট ঘুরে দেখতে পারেন। যাতে আইডিয়া নিতে পারেন কি ধরণের ডোমেইন বা ওয়েবসাইট বেশী বিক্রয় হয়। আর এর মাঝেই যদি কোন আইডিয়া পেয়ে জান তবে সাথে সাথেই দেখতে চেষ্টা করুন যে ডোমেইন বা ওয়েবসাইটটি খালি আছে কিনা বা অন্য কেউ একই আইডিয়া নিয়ে কাজ করছে কিনা। এবং সম্ভব হলেই কিনে ফেলুন। তবে কিনার আগে অবশ্যই দেখে নিবেন পরে বিক্রয় হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু। এবং সেই সাথে এই ডোমেইন বা ওয়েবসাইট এর আগের কোন রেকর্ড আছে কিনা যা আপনাকে ঝামেলায় ফেলতে পারে। যেমন খারাপ এসইও, কপিরাইট সমস্যা ইত্যাদি। যদি না থাকে তবে আপনি সকল প্রস্তুতি যেমন ওয়েবসাইট তৈরি করা, এসইও ইত্যাদি যা প্রয়োজনীয় তা সম্পূর্ণ করে নিতে পারেন এবং ডোমেইন বা ওয়েবসাইট বিক্রয়ের জন্য মার্কেট এ লিপিবদ্ধ করতে পারেন। তবে এখানেই শেষ নয়, আপনাকে হয়তবা ভালো দামে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মার্কেটিং করতে হতে পারে। যদি আপনি আশা করেন যে ভালো দামেই বিক্রয় হবে তবে সেটাও করে নিতে পারেন। প্রতিটা মার্কেটপ্লেসেই প্রমোট করার উপায় রয়েছে। এতে বেশী পরিমাণ বায়ারের কাছে আকৃষ্ট হওয়া যায়।

 

কোন মার্কেটপ্লেসে বিক্রয় করবেনঃ ডোমেইন বা ওয়েবসাইট কেনাবেচার জন্য অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। প্রতিটা মার্কেটপ্লেসই কিছু আলাদা বিশেষত্ব বহন করে। এবং ডোমেইন বা ওয়েবসাইট এর ধরণ অনুযায়ী আপনাকে আলাদা আলাদা ওয়েবসাইটেও লিপিবদ্ধ করতে হতে পারে। তবে চাইলে সকল মার্কেটপ্লেসেই আপনি লিপিবদ্ধ করতে পারেন।

 

কিছু মার্কেটপ্লেসঃ

 

নোটঃ অবশ্যই এমন ওয়েবসাইট বা ডোমেইন বাছাই করবেন যা আপনার কাছে ভ্যালু আছে বলে মনে হবে। শুধু খালি আছে বলেই কিনে নিচ্ছেন তা জেনো না হয়। আবার অনেক সময় অনেক ডোমেইন খালি থাকে যা দেখে মনে হয় এই ডোমেইন এর সামনে কোন দাম পাওয়া যাবে না কিন্তু সেটাও ভুল ধারণা হতে পারে। তাই চেষ্টা করুন ডোমেইন বা ওয়েবসাইট এর ভ্যালু বের বা আইডিয়া করতে। কারণ সেটাই এই মার্কেট এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর এতি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও হতে পারে। অর্থাৎ একটি ডোমেইন বা ওয়েবসাইট ভালো দামে বিক্রয় করতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। তাই সেই ব্যাপারটি মাথায় রেখেই আপনাকে কাজ করতে হবে।

 

যদি এই পোস্ট এর ব্যাপারে কোন মন্তব্য বা প্রশ্ন থাকে তবে আমাদের জানান। দ্রুততার সাথে উত্তর দিতে চেষ্টা করা হবে।

Leave a Reply