ওয়েবসাইট থেকে আয় নেই – কেন এবং সমাধান

ওয়েবসাইট থেকে অনেকভাবেই আয় করা সম্ভব বলে অনেকেই অর্থ খরচ করে সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি করেও বলেন ওয়েবসাইট থেকে আয় নেই বা সঠিক আয়ের পথসমূহ ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে পারছেন না। যেমন গুগল অ্যাডসেন্স না পাওয়া, ভিজিটর না আসা, বিজ্ঞাপনদাতারা অনাগ্রহী ইত্যাদি। আর এর অনেক কারণই থাকতে পারে। যার সঠিক চর্চা না করার কারণে হয়তো আপনার ওয়েবসাইটের আয় কমে যাচ্ছে। যদি সঠিকভাবে এগুলো অনুসরণ করে থাকেন তবে হয়তোবা আয় ঠিকই বৃদ্ধি পাবে। আজ সেসকল বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করবো এখানে। আশা করি তা কাজে লাগিয়ে আপনার ওয়েবসাইটের আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন।

 

কনটেন্ট কোয়ালিটি

যেকোনো ওয়েবসাইটের আয় বৃদ্ধি করার জন্য প্রথম শর্ত হচ্ছে ভালো মানের কনটেন্ট (Quality Content)। কোয়ালিটি কনটেন্ট বলতে বুঝানো হচ্ছে এমন কনটেন্ট যে কনটেন্ট দেখার জন্য বারবার ভিজিটররা (Traffic) ফিরে আসতে চাইবে এবং তাদের যা জানার ইচ্ছে তা জানতে প্রচুর সময় আপনার ওয়েবসাইটে ব্যয় করবে।  অর্থাৎ আরো জানার জন্য তারা আপনার ওয়েবসাইটেই থাকতে চাইবে আরো সময়। তবে যদি কনটেন্ট দেখতে বা পড়তে তাদের কোন বাঁধা থাকে তবে হয়তোবা তারা চাইলেও বেশী সময় থাকতে পারবে না। তাই সহজ ব্যবহার কিন্তু ভালো মানের কনটেন্ট ব্যবহার করলে অবশ্যই তারা আপনার ওয়েবসাইটেই বেশী সময় থাকবে এবং আপনার ওয়েবসাইট থেকে আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। তাই পর্যাপ্ত তথ্য সমৃদ্ধ কনটেন্ট নিয়মিত প্রকাশের মাধ্যমে ভিজিটর এবং আয় বাড়ানো সম্ভব।

 

ডিজাইন কোয়ালিটি

ভালো মানের কনটেন্টের পাশাপাশি ভালো মানের ওয়েবসাইট ডিজাইনও ওয়েবসাইটের আয় বাড়াতে প্রয়োজন। ডিজাইনের ক্ষেত্রে সহজ ব্যবহার, কনটেন্ট দেখতে বাঁধা বা ঝামেলা না থাকা, তথ্য খুঁজে বের করতে সহজ সার্চ বা মেনু থাকা ইত্যাদি বুঝানো হচ্ছে। যদি কনটেন্ট দেখার জন্য এখান থেকে সেখানে সেখান থেকে অন্য কোথাও ঘুরে বেড়াতে হয় তবে তা ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করবে এবং তার ফলে সে বেশিক্ষন ওয়েবসাইটে থাকতে চাইবে না এবং পরবর্তীতে ফিরে আসতেও আগ্রহবোধ করবে না। অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে সার্ভে বা বিভিন্ন লিংক ঘুরে বা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে এরপর কনটেন্ট দেখতে দেয়া হয় এবং আপনি নিজেও হয়তোবা রকম ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলেন। ঠিক আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের মতোই। তাই সহজ ব্যবহার, বিভ্রান্তমুলক অবস্থায় না ফেলা এবং সকল তথ্য সহজে খুঁজে বের করতে পারা ওয়েবসাইটগুলোকেই কোয়ালিটি ডিজাইন বলা যায় এবং এভাবে সহজ ডিজাইন ব্যবহার করলে আপনার কখনোই বলতে হবে না যে ওয়েবসাইট থেকে আয় নেই কথাটি।

 

Warning

কনটেন্ট ভায়োলেশন

কনটেন্ট ভায়োলেশন বা কপিরাইট ভায়োলেশন বলতে অন্যের বা অন্য ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট এনে তা নিজের ওয়েবসাইটে পোস্ট করাকে বুঝানো হচ্ছে। যদি সেই কনটেন্ট প্রকাশের সরাসরি অনুমতি না থাকে তবে পরবর্তীতে সেই কনটেন্ট নিয়ে এক বা একাদিক সমস্যা হতে পারে। যেমন কনটেন্ট এর অরিজিনাল মালিক বা স্বত্বাধিকারী (Copyright Owner) চাইলে আপনার ওয়েবসাইটের রেজাল্ট গুগল সার্চ রেজাল্ট থেকে মুছে দিতে পারেন, অথবা আপনার ওয়েবসাইট এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা (Legal Action) নিতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে আপনার ওয়েবসাইট বন্ধও করে দিতে পারেন। যার ফলে আপনি ভিজিটর হারাবেন, গুগল অ্যাডসেন্স বা অন্যান্য বিজ্ঞাপনদাতারাও আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকতে পারে এবং ভিজিটররা যদি বুঝতে পারেন যে আপনার ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট অরিজিনাল নয় এবং সোর্স অন্য কোথাও তবে তারাও পরবর্তীতে আপনার ওয়েবসাইটের প্রতি আর আকর্ষণ দেখাবে না। ফলে সব দিক থেকে ভিজিটর এবং আয় কমে আসবে। অনেক সময় সাথে সাথেই সার্চ ইঞ্জিন বা কনটেন্ট এর মালিক ধরতে পারে না যে কনটেন্ট অন্য কোথাও পোস্ট হয়েছে তবে তারা সবসময়েই এ ব্যাপারে লক্ষ্য রেখে থাকেন এবং পরবর্তীতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। এমনকি এই ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রেও হয়েছে। এই ওয়েবসাইটের কনটেন্ট অনেক ওয়েবসাইট কপি করেছে অনুমতি ছাড়াই এবং সেসকল ওয়েবসাইটের ব্যাপারে নিয়মিত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কখনো কখনো গুগল থেকে তার ওয়েবসাইট মুছে দেয়া হচ্ছে (DMCA Copyright Removal) আবার কখনো ওয়েবসাইট সার্ভিস প্রোভাইডার এর সাথে যোগাযোগ করে ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। অন্য ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রেও ব্যাপারগুলো সত্য। ফলে তারা ভিজিটর এবং আয়ের পাশাপাশি কখনো কখনো ওয়েবসাইটও হারাচ্ছেন। আপনিও এই কাজটি করে থাকলে নিয়মিতই বলতে থাকবেন যে আপনার ওয়েবসাইট থেকে আয় নেই এবং এভাবেই থাকবে।

 

এসইও

ওয়েবসাইট থেকে আয় নেই তার একটি বড় কারণ হতে পারে এসইও (SEO)। ওয়েবসাইটের ভিজিটর এবং আয়ের জন্য প্রয়োজন সকলের কাছে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট পৌঁছে দেয়া। আর সেজন্য সবচেয়ে কার্যকরী একটি উপায় হচ্ছে সঠিক ভাবে এসইও করা যাতে ভিজিটর কোন কনটেন্টের জন্য খোঁজ করে থাকলে সার্চ ইঞ্জিনগুলো আপনার কনটেন্ট তাদেরকে দেখাতে পারে এবং আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে। যার ফলে আপনার ওয়েবসাইটের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। তবে এসইও করার সময় অবশ্যই সঠিক পন্থা অবলম্বন করা জরুরী। ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করা হলে পরবর্তীতে আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনগুলো লিস্ট করা থেকে বিরত হয়ে গেলে আপনি ভিজিটর হারাবেন। সার্চ ইঞ্জিনগুলো তাদের ব্যবহারকারীকে সবচেয়ে ভালো কনটেন্ট দেখানোর জন্য সবসময়েই সতর্ক থাকে তাই অবশ্যই এই ব্যপারে আপনাকেও সতর্ক থাকতে হবে। অনেকেই অন্য ওয়েবসাইট থেকে লিংক বৃদ্ধি করার জন্য আবার অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার করে থাকেন। সার্চ ইঞ্জিনগুলো সে ব্যপারটাও দেখতে পায় এবং এটাও ব্ল্যাক হ্যাট এসইও হিসেবে দেখে। তাই অন্যের কপিরাইটেড কনটেন্ট ব্যবহার করে এসইও করাও আপনার ওয়েবসাইটের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।

 

মার্কেটিং

ওয়েবসাইটের ভিজিটর বৃদ্ধি করার জন্য মার্কেটিং অবশ্যই অতিপ্রয়োজনীয়। ওয়েবসাইটের মার্কেটিং অনেকভাবেই করা সম্ভব। ওয়েবসাইটের ধরণ অনুসারে পদ্ধতি পরিবর্তন হতে পারে। বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে ফেসবুক বা গুগল অ্যাডওয়ার্ডস (Google AdWords) ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন (Advertising) দেয়া যায়, আবার ফেসবুকে পেজ খুলে সেখানেও বিজ্ঞাপন দেয়া যায়, ইউটিউবে একই ক্যাটাগরিতে নিজস্ব ভিডিও আপলোড করে সেখান থেকেও মার্কেটিং করে ভিজিটর বৃদ্ধি করা যায়। তবে যেই পদ্ধতিই ব্যবহার করেন না কেনো অবশ্যই তা যেন হিতে বিপরীত না হয়। যেমন অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার করে, স্পামিং করে বা ভিজিটরদেরকে বিভ্রান্ত করে মার্কেটিং করতে গেলে অবশ্যই তা হিতে বিপরীত হবে এবং আপনি হয়তোবা ভিজিটর হারাবেন। নিয়মিত মার্কেটিং করার মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানোর মাধ্যমে ওয়েবসাইট থেকে আয় বাড়াতে সক্ষম হবেন।

 

আয় বাড়াতে সকল উপায়ের ব্যবহার

ওয়েবসাইট থেকে আয় বাড়াতে চাইলে আয়ের জন্য সকল উপায় ব্যবহার করতে পারেন। সকল উপায় বলতে যে সকল উপায়ে একটি ওয়েবসাইট থেকে আয় করা সম্ভব তার সকল উপায় ব্যবহার করাকে বুঝানো হয়েছে। যেমন ধরুন বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা, অ্যাফিলিয়েশন (Affiliation) ব্যবহার করা, মেম্বারশিপ অর্থাৎ মেম্বার হয়ে কনটেন্ট দেখা, সরাসরি বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য বিজ্ঞাপনী সংস্থা যাতে আপনার সাথে যোগাযোগ করে স্পেস কিনতে পারে সে ব্যবস্থা রাখা ইত্যাদি। এতে সবধরনের কনটেন্ট ব্যবহারকারীদের থেকেই আপনি আয়ের সুযোগটি গ্রহণ করতে পারছেন এবং তার মাধ্যমে ওয়েবসাইটের আয় বৃদ্ধি করতে পারছেন। গুগল অ্যাডসেন্স ছাড়াও অনেক ভালো ভালো বিজ্ঞাপনী সংস্থা রয়েছে যারা অ্যাডসেন্স এর মতোই ভালো অর্থ প্রদান করে বিজ্ঞাপনের স্পেস এর জন্য। আর অ্যাডসেন্স এর সাথে এসকল বিজ্ঞাপন ব্যবহারে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই আপনি সহজেই এসকল বিজ্ঞাপন ব্যবহার করতে পারেন। তবে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন বসাবার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন বিজ্ঞাপনের পরিমান অতিরিক্ত হয়ে না যায় এবং বিজ্ঞাপনের কারণে ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট দেখতে বা আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহারে সমস্যা না হয়।

 

ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট

ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট করাও আয় বাড়ানোর জন্য জরুরী। যদি আপনার ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট করা না হয় তবে পুরাতন কিন্তু নিয়মিত আপনার ওয়েবসাইট যারা ব্যবহার করেন তারা আসার পরিমান কমিয়ে দিবে যেহেতু তাদের জন্য নতুন কিছু নেই এবং সেই সাথে নতুন কেউও হয়তোবা আপনার ওয়েবসাইটে আসার কারণ পাচ্ছে না ফলে আপনি ব্যবহারকারী হারাচ্ছেন এবং আয় কমে আসছে। তাই নিয়মিত ওয়েবসাইট আপডেট করে ওয়েবসাইট থেকে আয় বাড়ানো যেতে পারে।

 

এসকল পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ করলে আর কখনোই বলতে হবে না যে আপনার ওয়েবসাইট থেকে আয় নেই এবং আয়ের জন্য ভুল পথেও যেতে হবে না। আর সবসময় চেষ্টা করতে হবে যেন কোন ধরণের অনিয়ম না হয়। অনিয়মের কারণে হয়তোবা আপনার আয় সবসময়েই কমে আসবে এবং একবার অনিয়ম শুরু হলে সেখান থেকে রিকভার করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। ওয়েবসাইট থেকে আয়ের জন্য এগুলো আসলেই জানা থাকা এবং অনুসরণ করা উচিৎ। আর সবচেয়ে বেশী জরুরী তাদের জন্য যারা নিজেরা কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন এবং পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের কনটেন্টকেও প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের থেকে আসা কনটেন্ট যাচাই করে দেখতে হবে সবসময়। কারণ সেসকল কনটেন্টও কপিরাইটেড হতে পারে।

Leave a Reply