কোন কাজটি শিখলে বা কোন কাজ করলে অনেক টাকা আয় করা যাবে এটা একটা প্রতিদিনের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারো কাছেই এটা ব্যাপার না যে সে কাজটি আসলেই শিখতে পারবে বা করতে পারবে কিনা। কারণ অনেকেই ধরে নেন ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারলেই হয়। আপনি কাজও পাবেন এবং কাজ করলেই অর্থ পেয়ে যাবেন।

ফ্রীল্যান্সার আসলে কি? তা কখনো ভেবেছেন কি? একটু লক্ষ্য করুন, কেউ একজন ফ্রীল্যান্সার। আপনি যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন সে কি কাজ করে তবে দেখবেন সে হয়তো ওয়েবসাইট ডিজাইন অথবা প্রোগ্রামিং অথবা অনলাইন মার্কেটিং করে। দেখুন এই তিনটি কাজের একটিও অন্যটির সাথে যায় না বা মিলে না। প্রতিটিই ভিন্ন ভিন্ন ধরণের কাজ। তাহলে কেন যারা এই কাজ গুলো করে তাদের ফ্রীল্যান্সার বলা হয়? আসলে ফ্রীল্যান্স এর অর্থ হচ্ছে নিজের মতো কাজ করা। যার অর্থ আপনাকে কেউ কাজ করতে চাপ দিতে পারবে না। বা প্রতিদিন সকাল ৮ টায় অফিসে গিয়ে একই ধারার কাজ করতে হবে না। অর্থাৎ আপনার ভালো লাগলে করবেন নয়তো ঘুমাবেন। যদিও আপনি একটি কাজ নেয়ার পর তা না করে ঘুমাতে পারবেন না। কেনোনা আপনি কাজটি করবেন বলেই নিচ্ছেন। এখন দেখুন এখানে অনেক ধরণের কাজ আছে। এই যেমন সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকা, গল্প লিখা, আমার এই ওয়েবসাইটটির মতো ওয়েবসাইট বানানো, মোবাইলের জন্য মজার মজার গেমস বানানো, কম্পিউটার এর জন্য দারুণ দারুণ সফটওয়্যার বানানো, কি নেই। কিন্তু এখানের কোনটি শিখলে অনেক টাকা আয় করা যায়?

সবচেয়ে বেশী আয় করা যায় উইন্ডোজ এক্সপি বা উইন্ডোজ সেভেন এর মতো সফটওয়্যার তৈরি করতে পারলে। এই সফটওয়্যার তৈরি করেই তো একজন ব্যক্তি বিশ্বের এক নম্বর ধনী ব্যক্তি হয়েছিলো। আপনি কি পারবেন? পারলে আপনিও হয়তো বিশ্বের এক নম্বর ধনী মানুষ হতে পারবেন। কি বলেন? তাহলে শুরু করে দেয়া যাক? নাকি? যদি এই কাজটি আসলেই এতো সহজ হয় তবে আর কেউ কেন পারলো না? আর কেউ কি অনেক টাকা আয় করতে চায় না? অবশ্যই চায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে উইন্ডোজ এর মতো একটি সফটওয়্যার বানাতেও কিন্তু অনেক টাকা এবং সময় লাগে। এর থেকেও ইম্পরট্যান্ট যেই ব্যাপারটি লাগে তা হচ্ছে লেগে থাকার মতো শক্তি এবং প্রচুর মেধা। আপনার কি তা আছে? থাকলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

নিশ্চয়ই ভাবছেন উইন্ডোজ এর মতো সফটওয়্যার বানানো কিভাবে ফ্রীল্যান্স হলো? এটাতো একটা কোম্পানি। জানেন কি উইন্ডোজ এর শুরু কিভাবে? ঠিক ফ্রীল্যান্সারদের মতোই। একদিন এক কোম্পানি ঘোষণা দিলো তারা কম্পিউটার তৈরি করবে। আর তিন বন্ধু তখন সেই কোম্পানিকে বললো তারা সেই কোম্পানির জন্য সফটওয়্যার তৈরি করে দিবে। তারা কিন্তু সেই কোম্পানিতে জব নেয় নি ঠিক যেমন ফ্রীল্যান্সাররাও জব নেয় না। তারা শুধু নির্দিষ্ট একটি কাজ সম্পূর্ণ করে দিতেই দায়িত্ব নেয়। যা সাময়িক।

তাহলে এখন আসা যাক কোন কাজটি শিখবেন সে ব্যাপারে। আসলে যারা ফ্রীল্যান্সার হিসেবে খুব ভালো করছে বা ভালো কাজ দেখাচ্ছে তাদের বেশীরভাগ কিন্তু আগে চিন্তা করেনি কি কাজ শিখবে। কাজটি তার ভালো লাগতো বলে শিখেছে। এটাও ভেবে দেখেনি এই কাজ করে অনেক টাকা আয় করা যাবে কিনা। বলা যায় শুধু নিজের জন্যই কাজ শিখেছেন। আপনি যেই কাজই শিখেন না কেন, যদি আপনি সেই কাজে নিজের দক্ষতা দেখাতে পারেন, তবে আপনি অন্য কাজের চেয়ে অনেক বেশী আয় করতে পারবেন। কিন্তু কাজটি করার জন্য আপনার প্রবল আগ্রহ এবং সময় থাকতেই হবে। কোন কাজে বেশী আয় হয় সেটা দেখার চেয়ে কোন কাজে আপনার মন বসে, আপনার ভালো লাগে এবং আপনার আরো আরো শিখার ইচ্ছে আছে সেটাই চেষ্টা করুন। সেটাই আপনাকে উন্নতির পথে নিয়ে যাবে।

Leave a Reply