ফ্রিলেন্সিং পেশায় কিভাবে ক্লায়েন্ট পাওয়া যাবে 
আপনি যখন ফ্রিলেন্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে যাবেন তখন আপনাকে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে এর প্রধান হচ্ছে কাজ করার জন্য ক্লায়েন্ট খুজে পাওয়া। ফ্রিলেন্সিং এমন একটি পেশা এখানে আপনি আমার কাজ ও ক্লায়েন্ট খুজে নিবেন নিজ যোগ্যতায়। ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজ দিবে আপনার প্রোফাইল ও ইস্কিল দেখে। বর্তমানে ফ্রিলেন্সিং এ একজন নতুন ফ্রিলেন্সারকে প্রথম কাজটি পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়। অনেক সফল ফ্রিলেন্সার রয়েছেন যারা তাঁদের ক্যারিয়ারের প্রথম কাজ পেতে ১ বছরেরও বেশী সময় বিড করে গেছেন। তবে কিছু মৌলিক বিষয় খেয়াল রাখলে এবং ধীরলয়ে এগিয়ে গেলে আপনার পক্ষেও সম্ভব দ্রুত কাজ জোগাড় করে ফ্রিলেন্সিং পেশা শুরু করা। আমরা আজ আপনাদের জানাব কি ভাবে ফ্রিলেন্সিং জগতে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ক্লায়েন্ট খুজে পাবেন। চলুন জেনে নেয়া যাকঃ
১। একটি সুন্দর আদর্শ প্রোফাইল তৈরি করুনঃ ফ্রিলেন্সিং জগতে আপনার প্রোফাইল হচ্ছে আপনার পরিচয়, আপনার ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইলে এসে যদি তিনি যা যা চাচ্ছেন অথবা আপনার অভিজ্ঞতা এবং ইস্কিল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান তাহলে আপনাকে কাজ দিতে তিনি পিছপা হবেন না। সে ক্ষেত্রে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুন বেড়ে যায়। আপনাকে তাই ফ্রিলেন্সিং ক্যারিয়ার শুরু করার প্রথম ধাপেই একটু সময় ও মেধা দিয়ে আপনার প্রোফাইলটি তৈরি করে নিতে হবে।
২। একের অধিক ফ্রিলেন্সিং সাইটে একাউন্ট খুলুনঃ আপনি ফ্রিলেন্সিং করতে চাইলে এবং এখানে সফল হতে হলে আপনাকে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে হবে। আপনার যদি এক সাথে কয়কটি  সাইটে একাউন্ট থাকে তাহলে আপনি বেশী বেশী বিড করতে পারবেন এবং আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও বহুগুন বেড়ে যাবে। একজন নতুন ফ্রিলেন্সার হিসেবে বাস্তবতা হচ্ছে আপনাকে বেশী বেশী কাজের জন্য বিড করতে হবে কারণ প্রথম দিকে আপনি যদি কিছু কাজ করে নিতে পারেন এবং ক্লায়েন্ট থেকে ভালো ফিডব্যাক পান তাহলে পরবর্তীতে কাজ পেতে সমস্যা হয়না।
৩। স্কিল অনুযায়ী পরীক্ষা দিয়ে দিনঃ ফ্রিলেন্সিং সাইট সমূহে ইস্কিল অনুযায়ী নানান রকম পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা আছে। আপনি যদি এসব  পরীক্ষা দিয়ে দেন আবন ভালো স্কোর করেন তাহলে এটি আপনার জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট। আপনি যে কাজ জানেন ক্লায়েন্ট তা বুঝতে পারবে আপনার পরীক্ষার ফলা ফলের মাধ্যমে সুতরাং আপনি যদি ভালো একটি স্কোর করতে পারেন তাহলে ক্লায়েন্ট অবশ্যই আপনাকে কাজ দিতে চাইবে। আপনিও বেশী বেশী কাজ পাবেন।
৪। পোর্টফলিও তৈরি করুনঃ ফ্রিলেন্সিং জগতে পোর্টফলিও একটি গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার যদি কোন কাজের অভিজ্ঞতা থাকে তবে আপনি উক্ত কাজের কিছু নমুনা আপনার প্রোফাইলে সংযুক্ত করুন একেই পরতফলিও বলা হয়। এতে ক্লায়েন্ট আপনার কাজ দেখতে পারবে এবং আপনার ব্যপারে তাঁর একটি ধারণা হবে।
৫। প্রাসঙ্গিক বিড করুনঃ আপনি যে কাজের জন্য বিড করছেন তা যেন প্রাসঙ্গিক হয়। এমন মূল্য চাইবেন না যা কাজের মেরিট থেকে অতিরিক্ত বেশী বা অতিরিক্ত কম। ভাববেননা আপনার ক্লায়েন্ট আপনার কম বিড দেখে আপনাকে কাজ দিয়ে দিবে। ক্লায়েন্ট আপনার কান্ডজ্ঞানহীন বিড দেখে আপনার বিষয়ে ভাল ধারণা করবেন না। তিনি ধরে নিতে পারেন আপনার কাজের বিষয়ে ধারণা নেই বিধায় আপনি এমন বিড করেছেন।
৬। সুন্দর কাভার লেটার লিখুনঃ আপনার বিড এর সাথে যে এপ্লিকেশনটি লিখতে হয় সেটি হচ্ছে কাভার লেটার। সুন্দর পরিমার্জিত আকর্ষণী কাভার লেটার আপনার ক্লায়েন্টকে আপনার প্রতি মনযোগী করবে। আপনার কাভার লেটারে আপনার কাজ করার খাত্রে ডিমান্ড, আপনি কতদিনে কাজটি কত ঘন্টা সময় দিয়ে করতে পারবেন তা উল্লেখ করবেন। আপনি যদি কাজের অফার ঠিক ভাবে না বুঝেন অথবা আপনার কোন জিজ্ঞাসা থাকে তবে তা সুন্দর ভাবে গুছিয়ে ক্লায়েন্টকে জিজ্ঞাসা করুন।
আশা রাখি উপরের ধাপ সমূহ সঠিক ভাবে অনুসরণ করলে একজন ফ্রিলেন্সার হিসেবে আপনার কাজ পেতে সমস্যা হবেনা।

Leave a Reply