সাধারণ ফ্রীল্যান্স প্রোফাইল (Freelance Profile) এবং আদর্শ ফ্রীল্যান্স প্রোফাইল। এই দুই ধরণের প্রোফাইলের ভিতর অনেক পার্থক্য রয়েছে। এবং সাধারণ প্রোফাইলের তুলনায় আদর্শ প্রোফাইল তুলনামূলক বেশী পরিমাণে কাজ পেয়ে থাকে। এর যথেষ্ট কারণও রয়েছে।

সাধারণ প্রোফাইলঃ সাধারণ প্রোফাইল বলতে শুধু প্রোফাইল তৈরি করতে হয় বলে কোন রকম প্রোফাইল তৈরি করে নিয়ে কাজে নেমে পড়াকে বুঝানো হয়। এক্ষেত্রে সাধারণত অপ্রয়োজনীয় ছবি (Photo), প্রোফাইল তথ্য (Overview), পোর্টফলিও (Portfolio), শিক্ষাগত (Education) যোগ্যতা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যদিও এসকল তথ্য দেয়া আর না দেয়া একই কথা। বরং এসকল তথ্য দেখে ক্লাইন্ট আপনার দক্ষতা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারবেনা ফলে আপনাকে হায়ার করতেও আগ্রহবোধ করবে না।

আদর্শ প্রোফাইলঃ আদর্শ প্রোফাইল এর ক্ষেত্রে নিজের একটি সুন্দর ও প্রফেশনাল ছবি বা লোগো, নির্দিষ্ট কাজের ব্যাপারে পর্যাপ্ত পোর্টফলিও বা কাজের স্যাম্পল (Work Sample), স্কিল (Skill) বিষয়ক শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য এর পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য, সুন্দর ভাবে গুছিয়ে লিখা একটি বর্ণনা ইত্যাদিকে বুঝানো হয়। এক্ষেত্রে আপনি বিষয়টিকে যতো বেশী সম্ভব গুছিয়ে লিখে নিতে বা সাজিয়ে নিতে চেষ্টা করতে পারেন। কেননা এতে ক্লাইন্ট ভালোভাবে তা পড়ে নিতে বা দেখতে আগ্রহবোধ করবে।

 

কেন আদর্শ প্রোফাইল?

বেশীরভাগ সময় ক্লাইন্ট প্রজেক্ট (Project) পোস্ট করলে সেখানে প্রচুর পরিমাণে বিড (Bid) আসে যার ফলে ক্লাইন্ট প্রতিটা বিডারকে যদি প্রশ্ন করে করে বাছাই করতে চায় যাতে সে সঠিক কাজ জানে কিনা সেটা জানতে পারে তবে এ জন্য তার অনেক সময় নেয়ার প্রয়োজন হবে। কিন্তু যদি সে প্রোফাইল দেখে দেখে শর্টলিস্ট তৈরি করে তবে তার জন্য ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। ফলে সে সেটাই করতে আগ্রহী হবে। আবার অনেক সময় ক্লাইন্ট ফ্রীল্যান্সার লিস্ট দেখে দেখে পার্সোনালী ফ্রীল্যান্সারদের নক করে থাকে। এক্ষেত্রেও তারা সাধারণত প্রোফাইল দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়। তাই একটি সুন্দরভাবে গুছিয়ে তৈরি করা প্রোফাইল বেশী অগ্রাধিকার পায়।

 

কিভাবে একটি আদর্শ প্রোফাইল তৈরি করবেনঃ

একটি আদর্শ প্রোফাইল তৈরি করা অনেক সহজ কিন্তু ধৈর্য ধরে সময় নিয়ে কাজটি শেষ করতে হবে। কেননা আপনি যদি আগেই কাজ নেয়ার জন্য দৌড় দেন কিন্তু প্রোফাইল সঠিকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা না করেন তবে সেক্ষেত্রে আপনার প্রোফাইল অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

প্রথমেই একটি ভালোভাবে তোলা আপনার একটি প্রফেশনাল ছবি আপলোড করুন। ছবিটি হতে হবে সামনে থেকে তোলা অর্থাৎ আমরা যেভাবে পাসপোর্ট সাইজের ছবি তুলে থাকি ঠিক সেরকম। এবং ব্যাকগ্রাউন্ড হতে হবে এক কালারের। তবে এক্ষেত্রে বাঁধাধরা কোন নিয়ম নেই। শুধু মুখমণ্ডল ঠিক ভাবে দেখা গেলেও হবে। কিন্তু যতো প্রফেশনাল মানের ছবি দেয়া হবে ততোই ভালো।

এবার সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে একটি ওভারভিউ যুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ আপনি কি করেন বা কি পারেন, আপনি কেন ফ্রীল্যান্স হিসেবে কাজ করতে পছন্দ করেন, আপনার দক্ষতা কোন কোন সেক্টরে ইত্যাদি। সেই সাথে আপনাকে কেন হায়ার করা উচিৎ সেই ব্যাপারেও লিখতে পারেন। আর এক্ষেত্রে একটু গুছিয়ে এবং প্যারাগ্রাফ (Paragraph) আকারে লিখুন।

অনেক মার্কেটপ্লেসে (Marketplace) টাইটেল দেয়ার ব্যবস্থা আছে। এখানে আপনার কাজের ধরণের উপর মিল রেখে একটি টাইটেল (Title) দিতে পারেন। যেমনঃ Professional Photographer, Marketing Consultant ইত্যাদি। তবে একটু আকর্ষণীয় কিন্তু ছোট টাইটেল ব্যবহার করা উত্তম।

এবার আপনার পুরাতন কাজের হিস্টোরি (Employment History) তুলে ধরুন। অর্থাৎ ফ্রীল্যান্সিং করার আগে আপনি কি কাজ করেছেন, কতদিন করেছেন, সেখান থেকে কি কি শিখেছেন ইত্যাদি। আর এক্ষেত্রে আপনি যেই কোম্পানির সাথে কাজ করেছেন সেই কোম্পানির ব্যাপারেও হালকা তথ্য দিতে পারেন।

এবার আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার স্কুল কলেজের নাম, কোন সাবজেক্ট এর উপর পড়ালেখা করেছেন, ডিগ্রী (Degree) এর ব্যাপারে তথ্য ইত্যাদি দিতে হবে। অবশ্যই এখানে সংক্ষেপে কিছু লিখা যাবে না। যেমন আমরা অনেকেই SSC লিখে থাকি। যদিও অনেক দেশেই SSC নামেই কোন কিছুই নেই। কিন্তু আপনি যদি ফুলফর্ম ব্যবহার করেন তবে ক্লাইন্ট বুঝতে পারবে আপনি আসলে কোন সাবজেক্ট এর উপর পড়েছেন এবং আপনার ডিগ্রী কিসের উপর।

Leave a Reply