আপনি হয়তোবা আপনার ব্লগের ভিজিটর বৃদ্ধি করতে সবকিছুই করছেন। আরো অনেকেই করছে। কিন্তু এতো ভিড়ের ভিতর ভিজিটরদের আকর্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত কিছু হয়তোবা করছেন না। ফলে আপনি ভিজিটর হারাচ্ছেন। কিন্তু চাইলে আপনি খুব সহজেই ফেসবুক ব্যবহার করে ভিজিটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং তাদেরকে আপনার ব্লগে আনতে পারেন এবং আপনার ব্লগের ভিজিটর বৃদ্ধি করতে পারেন।

 

ব্লগের ভিজিটর বৃদ্ধি করার উপায়

 

ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন ব্যবহার করুনঃ ফেসবুকে আপনি যখন লিংক শেয়ার করবেন তখন সেখানে ছোট এবং সহজ কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। যাতে সকলে সেখানে উত্তর দিতে চেষ্টা করতে পারে। একই সাথে যারা উত্তর জানে না তারা জানতে ব্লগ ভিজিট করতে পারে। তবে সবসময় সহজ না দিয়ে পোস্ট এর ধরণ অনুযায়ী কঠিন প্রশ্নও করতে পারেন যা আকর্ষণীয় এবং সবাই এর উত্তর জানতে চাইবে এবং সেজন্য তাদেরকে ব্লগ ভিজিট করতে হবে।

সবসময়েই লক্ষ্য রাখতে চেষ্টা করবেন আপনি যে বিষয়ের উপর লিখা পোস্টের ব্লগ লিংক শেয়ার করছেন প্রশ্ন সেই বিষয় নিয়েই করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন বেশী ব্যবহারকারীর চোখে পড়তে পারে তাও ভাবতে হবে।

 

পোস্টের ভিতর ভিন্নতা আনুনঃ সবসময়েই চেষ্টা করবেন যে ধরণের পোস্টে ব্যবহারকারীরা বেশী আগ্রহ দেখাচ্ছে বা পোস্টের সাথে বেশী জড়াচ্ছে অর্থাৎ মন্তব্য, লাইক বা শেয়ার বেশী হচ্ছে সে ধরণের পোস্ট বেশী করতে। এতে সহজেই ব্লগ পোস্টের লিংকটি অন্যদের চোখে পড়তে পারে এবং তারাও জড়াতে পারে। ফলে ভিজিটর বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগও বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সাথে যারা সেখানে মন্তব্য করছে তাদেরকে ফিডব্যাক জানাতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া বা তাদের ফিডব্যাক সম্পর্কে মন্তব্য করা ইত্যাদি কাজ করতে পারেন। আর এজন্য সবসময়েই ব্যবহারকারীদের ফিডব্যাক এবং তাদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে পারেন। একই সাথে Facebook Page Insights ব্যবহার করতে পারেন। এতে সহজেই আপনি ব্যবহারকারীদের কোন ধরণের পোস্টে আগ্রহ বেশী তা দেখতে এবং সেভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

আর সবসময়ে শুধু লিংক শেয়ার না করে মাঝেমধ্যে ছবি আপলোড করা যেতে পারে। কেনোনা ছবি খুব সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম। তাই ছবি শেয়ার করার মাধ্যমে ব্লগের লিংকটিও দিতে পারেন। যাতে বিস্তারিত জানার জন্য ব্যবহারকারীরা আকর্ষিত হয়। এটি খুব কার্যকরী একটি পদ্ধতি।

 

অন্য পেইজের সাথে যোগাযোগঃ ফেসবুকের পেইজ অনেকটা ফেসবুক প্রোফাইল এর মতো করেও ব্যবহার করা যায়। এবং অন্য পেইজের গিয়ে সেখানে প্রোফাইল এর মতো করেও লাইক দেয়া বা মন্তব্য করা ইত্যাদি কাজ করা যায়। তাই আপনার ব্লগের গ্রুপের ধরণ অনুসারে একই গ্রুপের অন্যান্য ব্লগের পেইজে গিয়েও আপনি লাইক বা মন্তব্য করতে পারেন। এতে সহজেই সেই পেইজের ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন এবং আপনার পেইজে বা ব্লগেও আনতে পারবেন। তবে অবশ্যই স্পামিং করা যাবে না। এতে হিতে বিপরিত হতে পারে।

পেইজকে প্রোফাইলের মতো করে ব্যবহার করতে চাইলে ফেসবুকে গিয়ে উপরের ডান পাশের তীর চিহ্নতে ক্লিক করুন, এরপর Use Facebook as: এ আপনার পেইজটি বাছাই করুন। একইভাবে আবার আপনার প্রোফাইলের নাম বাছাই করে আপনার অ্যাকাউন্টেও ফিরে আসতে পারেন।

 

পোস্টের আকর্ষণীয় অংশঃ অনেক সময় একই পোস্ট পুনরায় শেয়ার করার জন্য ব্লগ পোষ্টটির আকর্ষণীয় অংশ তুলে ধরতে পারেন। বিশেষ করে উক্তি বা কয়েকটি লাইন যা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হতে পারে। যেমন ধরুন ব্লগ পোস্টে কোন বিখ্যাত লাইন থাকলে সেই লাইন অথবা কোন একটি প্যারাগ্রাফ ইত্যাদি। তবে যেই অংশই নেন না কেন তা যেন দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য পর্যাপ্ত শক্তিশালী হয়।

 

এসইওঃ আপনি কি জানেন ফেসবুকের পোস্টও গুগল সার্চ রেজাল্টে দেখানো হয়? আর এটা হতে পারে ভিজিটর বৃদ্ধি করার আরেকটি হাতিয়ার? না জানা থাকলে এবং আগে এরকম এসইও (SEO) করে না থাকলে এখনি শুরু করতে পারেন। লিংক শেয়ার করার সময় লিংক এর সাথে আপনি কীওয়ার্ড যুক্ত করতে পারেন। একই সাথে হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করতে পারেন। এতে গুগল এবং ফেসবুক দুই জায়গাতেই সার্চ রেজাল্টে আপনার শেয়ার করা লিংক দেখানো সম্ভব হবে। ফলে ভিজিটর বৃদ্ধি করার আরো একটি উপায় বেড়ে যাবে।

 

এসকল পদ্ধতিগুলোর নিয়মিত চর্চা করা হতে পারে আপনার সফলতার চাবিকাঠি। তাই সবসময়েই চেষ্টা করুন এই উপায়গুলো নিয়মিত ফলো করে চলতে যাতে আপনার ব্লগের ভিজিটরের পরিমাণ যথাসম্ভব বৃদ্ধি পায়। যা আপনার ব্লগকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারে এবং ব্লগ থেকে আয় বাড়াতেও আপনাকে সহায়তা করতে পারে।

Leave a Reply