On The Way To Success

সফল হতে অ্যাডসেন্স নিয়ে প্ল্যান কেন করবেন?

by Moin Uddin Ahmed Tipu
827 views

অনেকেই আছেন যারা গুগল অ্যাডসেন্স (Google AdSense) থেকে আয় করা যায় জেনে কোন রকম একটি ওয়েবসাইট দাড় করিয়ে নেমে পড়েছেন অ্যাডসেন্স এ কিন্তু সবশেষে দেখছেন যে এর থেকে আয় (Income) হচ্ছে নগণ্য। বলা যায় কোন রকম অ্যাডসেন্স আপনাকে একটা অর্থ ধরিয়ে দিচ্ছে। সেই সাথে আপনি তীরে এসে তরী ডুবে এমন অবস্থায় পড়েছেন। জানেন কি এর জন্য আপনিই দায়ী?

আসলে গুগল  অ্যাডসেন্স এর আয় নির্ভর করে সম্পূর্ণই আপনার কনটেন্ট (Content) এর উপর। অর্থাৎ কনটেন্ট এর ধরণ অনুযায়ী আপনার আয় বাড়তে কমতে পারে। তাই ওয়েবসাইট তৈরি শুরু করার আগেই এর ব্যাপারে প্ল্যান তৈরি করে নিতে হবে। নয়তো সফল হতে পারবেন না। আর কিভাবে প্ল্যান করতে হবে তা সম্পর্কে একটু ধারণা দিতেই এই পোস্ট। আশা করি আপনাদের কাজে আসবে।

আমার ৫ জন ক্লাইন্ট এর দৈনিক আয় এবং আমার আয় এর উপর কিছুটা তথ্যও এখানে আপনারা পাবেন। সেগুলো ও আপনাদের হেল্প করবে অ্যাডসেন্স সম্পর্কে প্ল্যান করতে।

অ্যাডসেন্স এর আয় নির্ভর করছে বিজ্ঞাপনদাতা (Advertiser) প্রতি ক্লিক এ (CPC) কতো সেন্ট বা ডলার সেট করছে তার উপর। আর তাকেও অনেক প্রতিযোগিতায় যেতে হয়। কেনোনা সে যেই বিষয়ের উপর টার্গেট করে বিজ্ঞাপন সেট করছে সেই একই বিষয়ের উপর আরো অনেকেই বিজ্ঞাপন টার্গেট করছে। তাই তাদের বিজ্ঞাপন যাতে কেউ দেখে এজন্য একজন আরেকজনের থেকে বেশী বাজেটেই বিজ্ঞাপন দিতে চেষ্টা করে। কেনোনা যে বেশী অর্থ দিবে তার বিজ্ঞাপনই গুগল অ্যাডসেন্স আগে দেখাবে। তার বাজেট শেষ হলে পরের জনেরটি। এভাবেই চলতে থাকে। এখন ধরুন আপনার ওয়েবসাইট এর বিষয় সাধারণ কিছু। ফলে আপনি হয়তোবা নন-টার্গেটেড বিজ্ঞাপনগুলো পাবেন যেগুলোতে খুবই অল্প পেমেন্ট দেয়া হয়ে থাকে। এমনকি সেটা এক সেন্টও হতে পারে। ফলে আপনার ওয়েবসাইট এর বিজ্ঞাপনে যতই ক্লিক পড়ুক না কেন আপনার আয় হবে খুবই কম। কিন্তু ধরুন আপনি এমন একটি বিষয়ের উপর ওয়েবসাইট করেছেন যার CPC ১০ ডলার তবে আপনি প্রতি ক্লিক এ ৬.৮০ ডলার পাচ্ছেন। আপনার আয় কতটুকু বেড়ে যাচ্ছে?

এখন কথা হচ্ছে তাহলে কি আপনি সবচেয়ে বেশী পেমেন্ট দেয়া হয় এমন বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করবেন? তাহলে সেটা হবে আরেকটি ভুল। মনে রাখবেন যেখানে আয় বেশী সেখানে মানুষের দৌড়ও বেশী। সোজা কথায় প্রতিযোগিতা। তাই নামার আগে দেখতে হবে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন কিনা। কেনোনা আপনার শুধু ওয়েবসাইট থাকলেই হবে না, ওয়েবসাইট এর জন্য ভিজিটরও লাগবে। কিভাবে ভিজিটর পাবেন? এর সহজ উত্তরও গুগল। গুগল সার্চ। গুগল সার্চ থেকেই সবচেয়ে বেশী ভিজিটর আনা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য আপনাকে এসইও (SEO) করে আপনার ওয়েবসাইট গুগল সার্চ এর প্রথম স্থানে আনতে হবে। তবে অন্য প্রতিযোগিরাও একই কাজ করছে। তাই আপনাকে ভালোই কষ্ট করতে হবে সেই স্থান দখল করতে। নয়তো আবার হেরে যাবেন। তাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হচ্ছে এমন একটি টপিক খুঁজে বের করা যার সম্পর্কে চাহিদা অনেক বেশী কিন্তু কনটেন্ট অনেক কম আছে। সেই সাথে তার CPC এর রেটও অনেক ভালো। এক্ষেত্রে গুগল কী-ওয়ার্ড রিসার্চ টুল (Google Keyword Research Tool) ব্যবহার করতে পারেন। ফলে আপনি জানতে পারবেন প্রতিমাসে টপিকটি কতো বার সার্চ করা হচ্ছে, প্রতি ক্লিক এ বিজ্ঞাপনদাতারা কতো ডলারের মতো ব্যয় করছে ইত্যাদি। এবং এর মাধ্যমেই একটি ভালো টপিক নিয়ে কাজ শুরু করুন। তবে লক্ষ্য রাখবেন সেই টপিকের উপর যেন প্রতিযোগী কম থাকে যাতে আপনি সহজেই উপরে বা দ্রুত প্রতিযোগিতায় উপরে উঠে আসতে পারেন।

আর এছাড়া আরো একটি ব্যাপার লক্ষ্য রাখতেই হবে। সেটা হচ্ছে পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত কনটেন্ট। যদি পর্যাপ্ত কনটেন্ট না থাকে তবে ভিজিটর হয়তোবা আপনার ওয়েবসাইট এ এসেই আবার চলে যাবে। কিন্তু যতো বেশী সময় তাকে ধরে রাখতে পারবেন ততোই আপনার বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার সম্ভাবনা বাড়বে। তাই এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে সেই সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে কনটেন্ট যেন মানসম্মত হয়। কারণ এতে যে শুধু ভিজিটর এর পরিমাণ বাড়বে তাই না, সেই সাথে ভালো মানসম্মত কনটেন্ট থাকা ওয়েবসাইটগুলোকে বিজ্ঞাপনদাতারা টার্গেট ও করে থাকে। আর এর জন্য অনেক ভালো CPC নির্ধারণ করে। তাই এই ব্যাপারটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যাই হোক, এবার আমার এবং আমার ক্লাইন্টদের ওয়েবসাইট নিয়ে কিছু তথ্য

আমার এই ওয়েবসাইটটি (FREELANCE HELPLINE) খুব সাধারণ কাজে এবং শখের বসেই তৈরি করা। এখানে অ্যাডসেন্স থাকলেও আদতে এই সাইট অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। শুধু এই ওয়েবসাইট এর খরচ তুলতেই অ্যাডসেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে। এবং এই ওয়েবসাইট এর বিষয় যেহেতু টার্গেটেড না, এর ইনকাম ও তাই অনেক কম। প্রতি ক্লিক এ সাধারণত ২ থেকে ৫ সেন্ট। আপনি ঠিকই শুনেছেন। তবে মাঝেমধ্যে আরেকটু বেশী পাওয়া যায় তবে তা কোন মতেই ২৫ সেন্ট এর বেশী নয়।

আমার বেশ কয়েকজন ক্লাইন্ট রয়েছে যাদের অ্যাডসেন্স আমি ম্যানেজ করি। অর্থাৎ তাদের আয় কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়েই তাদের সাথে কাজ করি। তাদের ওয়েবসাইট এর বিষয় এবং প্রতি ক্লিক এ আয়ঃ

বিষয়ঃ – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – প্রতি ক্লিক এ আয়


ভবিষ্যৎ বাণী (Prediction) – – – – – – – – – – – – – – – – – – – ৫ থেকে ২৫ ডলার

ধ্যান/স্বাস্থ্য/ব্যায়াম (Yoga / Health / Exercise) – – – – ৩ থেকে ৪০ ডলার

ফ্যাশন টিপস (Fashion Tips) – – – – – – – – – – – – – – – – – – ২ থেকে ৩০ ডলার

নিউজ/ম্যাগাজিন (News / Magazine) – – – – – – – – – – – – ০.৫০ ডলার থেকে ৫ ডলার

ডাটা/ফাইল রিকভারি (File / Data Recovery) – – – – – – – ১৫ থেকে ৯০ ডলার

 

আশা করি এখন বুঝতে পারছেন কেন অ্যাডসেন্স থেকে আয় করতে সঠিক প্ল্যান এর প্রয়োজন আছে। এখন পর্যন্ত যারাই অ্যাডসেন্স থেকে সফল ভাবে ভালো অর্থ আয় করছে তাদের সকলেই তাদের আয় পাচ্ছে শুধু সঠিক পরিকল্পনার জন্যই। এমনকি এখানে যেই ৫ জনের আয় আমি দিয়েছি তারাও ওয়েবসাইট তৈরির আগে দীর্ঘদিন এক্সপার্টদের সাথে আলোচনা করেছেন এবং সেভাবেই তারা সব তৈরি করেছেন। তাই সবার আগে পরিকল্পনা করুন। এরপর বাস্তবায়ন। সবশেষে অ্যাডসেন্স। অবশ্যই অ্যাডসেন্স থেকে আয় করতে সফল হতে পারবেন।

Related Posts

Leave a Comment